চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানিতে হাওয়া লাগে। সে মাসে ৪৭৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। প্রবৃদ্ধি হয় প্রায় ২৫ শতাংশ। কিন্তু পরের মাস আগস্টে রপ্তানি কমে গেছে সাড়ে ৪ শতাংশের বেশি। পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩৮৮ কোটি ডলার। গত বছরের এই আগস্টে রপ্তানি হয়েছিল ৪০৭ কোটি ডলার। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।রপ্তানি পণ্যের সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এনবিআরের তথ্যভান্ডারে নথিভুক্ত হয়। রপ্তানি হওয়া পণ্য থেকে কত আয় দেশে আসে, তার হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকে নথিভুক্ত হয়। সেখান থেকেই এনবিআর তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। এরপর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কোন পণ্য কোন দেশে কী পরিমাণ রপ্তানি হয়, তার বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করে ইপিবি। এনবিআর থেকে পরিসংখ্যান নিয়ে এটা করে থাকে সংস্থাটি। তবে সেটি এখনো প্রকাশ করেনি ইপিবি। সে জন্য আগস্টে কোন পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে, কোন পণ্যের কমেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক থেকে। এই খাতের ওপর ভর করেই রপ্তানি আয় বাড়ে। অন্য সময়ের মতো জুলাই মাসে এই খাত ভালো করে। তবে সাধারণত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তুলনামূলক কম পণ্য রপ্তানি হয়। গত এপ্রিল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা ছিল। গত ৩১ জুলাই বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাল্টা শুল্ক এড়াতে জুলাই মাসে অনেক পণ্য জাহাজীকরণ হয়েছে। স্থগিত থাকা অনেক পণ্যও রপ্তানি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জুলাই মাসে অনেক রপ্তানি হয়েছে। তবে অন্য বছরের মতো পরের তিন মাস রপ্তানি কমবে।
তৈরি পোশাক ছাড়াও জুলাই মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে প্রবৃদ্ধি ভালো করে প্রায় ৩০ শতাংশ। কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে ১৩ শতাংশ, হোম টেক্সটাইলে ১২ শতাংশ, পাট ও পাটপণ্যে প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। এ ছাড়া জুলাই মাসে প্রকৌশল পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানিও বাড়ে।
উল্লেখ্য, ইপিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৪৪৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক।

