ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার অহংকার, দেশের এক ঐতিহাসিক ধন—আহসান মঞ্জিল। লাল প্রাসাদের নামেই এটি খ্যাতি অর্জন করেছে, যা শুধু স্থাপত্য নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের সাক্ষী। প্রায় ১৮৫৯ সালে নির্মিত এই প্রাসাদ নবাব সিরাজ উদ্দৌলার পরিবার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়।
আহসান মঞ্জিলের স্থাপত্যে দেখা যায় মুগল স্থাপত্যের ছাপ। বিশাল বারান্দা, রঙিন টিনের ছাদ ও লাল ইটের দেয়াল—সবই দর্শনীয়। প্রাসাদটি নবাবদের আবাসস্থল ও প্রশাসনিক কার্যলয় হিসেবে ব্যবহার হতো। ব্রিটিশ শাসনের সময় এটি ঢাকা শহরের সামাজিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও খ্যাতি পেয়েছিল।
আজ আহসান মঞ্জিল কেবল ইতিহাসের নিদর্শন নয়, এটি পর্যটকদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। জাদুঘর হিসেবে সংস্কার করে এখানে রাখা হয়েছে নবাবদের ব্যবহারিক জিনিসপত্র, আসবাবপত্র, নকশি-পাতার ছবি ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ও শিক্ষার্থী এখানে আসেন ইতিহাসে চোখ রাখতে।
ঢাকার লাল প্রাসাদের গুরুত্ব কেবল পর্যটন বা স্থাপত্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় ইতিহাসের প্রতীক, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাংলার গৌরবের গল্প বলে যাচ্ছে।
স্থানীয় পর্যটকরা বলেন,
“আহসান মঞ্জিলের সৌন্দর্য আর ইতিহাস একসাথে অনুভব করতে পারা সত্যিই অনন্য অভিজ্ঞতা।”
সরকার ও সংস্কার সংস্থাগুলোর উদ্যোগে প্রাসাদের যত্ন নেওয়া হচ্ছে। পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি শিক্ষণীয় স্থান হিসেবেও কাজ করছে।
আহসান মঞ্জিল এখন কেবল লাল প্রাসাদ নয়, এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গৌরবের এক উজ্জ্বল প্রতীক।

