পত্রিকার পাতা
ঢাকাশুক্রবার , ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

তীব্র গরমে বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষতি ১৮০ কোটি ডলার: বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ৩১, ২০২৬ ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

তীব্র গরমের কারণে ২০২৪ সালেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি ১৩০ থেকে ১৮০ কোটি (১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ দেশের মোট জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের সমান। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে অর্থনৈতিক ক্ষতির হার আরও দ্রুত বাড়তে থাকে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত ‘A Livable Future: Protecting Jobs and Growth from Extreme Heat in South Asia’s Cities’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (FCDO), সিটি রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম এবং গ্লোবাল ফ্যাসিলিটি ফর ডিজাস্টার রিডাকশন অ্যান্ড রিকভারি (GFDRR)। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের শহরগুলোর ওপর চরম তাপের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাপের কারণে হারানো কর্মঘণ্টাকে পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণে হিসাব করলে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি শহরের মধ্যে ঢাকার ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ঢাকায় বছরে মোট কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশ তাপজনিত কারণে নষ্ট হচ্ছে, যা প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ।

এই ক্ষতি ২০৫০ সালে বেড়ে ৭ লাখ ৮ হাজার চাকরির সমপরিমাণ এবং ২০৮০ সালে প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরির সমপরিমাণে পৌঁছাবে। তখন কর্মঘণ্টা হারানোর হার বেড়ে দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে। তুলনায়, ২০৮০ সালে কলকাতায় এ ক্ষতি হবে প্রায় ৮ লাখ ৩৩ হাজার এবং নয়াদিল্লিতে প্রায় ৬ লাখ ২৯ হাজার চাকরির সমপরিমাণ। অর্থাৎ এই দুই শহরের তুলনায় ঢাকার ক্ষতি বেশি হবে।

তৈরি পোশাক খাতেও বড় ক্ষতির শঙ্কা

তাপজনিত চাপ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের তৈরি পোশাক খাত ২০৩০ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় হারাতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সরকারের গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ডের সহায়তায় ২০১৬ সাল থেকে নেওয়া উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের ২৭০টির বেশি কারখানা ইতিমধ্যে পরিবেশবান্ধব LEED সনদ অর্জন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি তাপজনিত ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব

বিদ্যুৎ খাতেও তাপপ্রবাহের আর্থিক প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলের তাপপ্রবাহের সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৩ হাজার ৯৮৮ মেগাওয়াট।

প্রায় ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের এই ঘাটতি এবং জ্বালানি সরবরাহের সংকটের কারণে দেশজুড়ে পালাক্রমে লোডশেডিং করতে হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিল্পোৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের তাপপ্রবাহে দেশের কয়েকটি মহাসড়কে বিটুমিন গলে যাওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সড়ক অবকাঠামো মেরামতে বাড়তি ব্যয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আগাম সতর্কতায় কমতে পারে ক্ষতি

তাপজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যয় কমানোর পথও দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, ভারতের আহমেদাবাদে চালু হওয়া তাপ কর্মপরিকল্পনার মতো আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগে প্রায় ৫০ ডলার সমপরিমাণ সুফল পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশও একই ধরনের উদ্যোগের পথে এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বিশ্বের প্রথম পূর্বাভাসভিত্তিক তাপপ্রবাহ সহায়তা কর্মসূচি চালু করে। এর আওতায় প্রায় ৪ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে মুঠোফোন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিবারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়।

বাড়ছে এসি বিক্রিও

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসিতে মানুষের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার এসি বিক্রি হয়েছে, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় তিন গুণ।

এতে পরিবারের বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার ক্ষতি এড়াতে এটি সহায়ক হতে পারে।

অভিযোজন না করলে বাড়বে অর্থনৈতিক ঝুঁকি

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও যদি তাপ মোকাবিলায় কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের জিডিপি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের নগর, উপ-জাতীয় অর্থ, পর্যটন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মিং ঝাং বলেন, তাপ সহনশীলতা এখন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে আগাম বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে ১৫টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাপপ্রবাহের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, দুর্যোগ ঝুঁকি তহবিলে তাপকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপ মোকাবিলায় এখন বিনিয়োগ না করলে ভবিষ্যতে এর আর্থিক মূল্য অনেক বেশি দিতে হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।