বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গুলিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সবুজ নিহতের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/১২০(খ)/৩০২/১০৯/ ১১৪/৩৪ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, সাবেক এমপি সাদেক খান, সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, সৈয়দ নূর ইসলাম রাস্টন, শেখ মোহাম্মদ খোকন, আসিফ আহমেদ, তারেকুজ্জামান রাজীব, জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস মাসুদুর রহমান বিপ্লব, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান, আওয়ামী নেতা আজিজুল হক রানা, আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, মুহাম্মদ বদিউল আলম বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, আনিসুর রহমান কাবুল, মারুফুল ইসলাম বিপ্লব, সেন্টু, মনির চৌধুরী, ফারুক খান অভি, আবুল কাশেম ওরফে কাশু, সেলিম, আইমান ওয়াসেফ ওরফে অমিক, মো. কামরুজ্জামান রুবেল, মিলন হোসেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানার সভাপতি রাসেল।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, ঘটনার তদন্তে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, এজাহারনামীয় আসামি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, সাদেক খান, সলিমুল্লাহ সলু, সৈয়দ নূর ইসলাম রাস্টন, শেখ মোহাম্মদ খোকন, বজলুর রহমান, আজিজুল হক রানা, আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, রিয়াজ মাহমুদ, মুহাম্মদ বদিউল আলম বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন ও শাহজাহান খানের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, আর্থিক সহায়তা, আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করে পরামর্শ প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় আসামি আসিফ আহমেদ, তারেকুজ্জামান রাজীব, তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মাসুদুর রহমান বিপ্লব ও রাসেলের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ভিকটিম সবুজকে গুলি করে হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
এ ছাড়া এজাহারনামীয় আসামি আনিসুর রহমান কাবুল, মারুফুল ইসলাম বিপ্লব, সেন্টু, মনির চৌধুরী, ফারুক খান অভি, আবুল কাশেম ওরফে কাশু, সেলিম, আইমান ওয়াসেফ ওরফে অমিক, মো. কামরুজ্জামান রুবেল ও মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে লাঠিসোঁটা নিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে আন্দোলনরত নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতাদের ওপর হামলা চালিয়ে ওই হত্যার ঘটনায় সরাসরি সহযোগিতা করার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৪ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম মসজিদের সামনে আসামিরা আন্দোলনকারীদের ওপর দেশীয় অস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। আসামিদের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন অটোরিকশাচালক সবুজ। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর ওই দিনই মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলার করেন নিহত সবুজের ভাই মনির হোসেন। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ট্রাকচালক মো. হোসেন। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গত ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

