দেশের শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন–এর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক অভিযোগ গঠন করেন এবং মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ২০০৪ সালে ঢাকার গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করে। এ সময় আটককৃত আসামির স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে যে, এসব অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করতেন সুব্রত বাইন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘদিন পলাতক, এখন আইনের আওতায়
দীর্ঘদিন ভারতে আত্মগোপনে থাকা সুব্রত বাইনকে ২০২৩ সালে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যার্পণ করা হয়। এরপর থেকেই একে একে তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, সুব্রত বাইন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন ও অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে মোট ২৫টির বেশি মামলা রয়েছে, যার বেশিরভাগই গুরুতর অপরাধমূলক।
আদালতে কড়া নিরাপত্তা
বিচারকাজ চলাকালে আদালত এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র্যাব ও পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয় আদালত প্রাঙ্গণে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৫ জন সাক্ষী রয়েছে, যাদের সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী মাস থেকে শুরু হবে।
কী বলছে রাষ্ট্রপক্ষ?
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন,
“দীর্ঘদিন পর এই মামলার বিচার শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী। প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে আমরা সুব্রত বাইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই।”
জনমনে স্বস্তি
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও বিচারের অগ্রগতির খবরে রাজধানীবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, দেশের অন্যতম দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর বিচারের মধ্য দিয়ে অপরাধ দমনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।

