বরগুনা, ১৯ অক্টোবর: এক আওয়ামী লীগ নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বরগুনায় বিএনপির ছয় নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৯ অক্টোবর) বরগুনার দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ এ আদেশ দেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইসরাত হোসেন সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পটভূমি
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছর ৫ আগস্ট ‘সরকার পতনের একদিবসীয় কর্মসূচি’ চলাকালে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মাইঠা ব্রিজ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা মো. মনিরুজ্জামানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় একদল বিএনপি নেতাকর্মী। হামলার সময় ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ করেন মনিরুজ্জামানের স্ত্রী মোসা. মুন্নী। তিনি ওই ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন।
কারাগারে যাওয়া নেতাকর্মীরা
আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো ছয়জন হলেন—
-
এমদাদুল হক মিলন – যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য
-
মো. মিল্টন – ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক
-
সোলায়মান কবির ইউনুস – ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য
-
আকতারুল হক – ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব ও ইউপি সদস্য
-
মন্টু মল্লিক – ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য
-
জামাল মল্লিক – ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য
আদালতের সিদ্ধান্ত
অভিযুক্তরা আগে অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। আজ (রবিবার) স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে বিচারক সেটি নামঞ্জুর করে ছয়জনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী মুন্নী বলেন, “আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। একজন আসামি (প্রিন্স) জামিন পেলেও বাকিদের জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় আমি সন্তুষ্ট।” তিনি আরও দাবি করেন, অপর একজন আসামি কামরুল ইসলাম মিরাজ মামলা হওয়ার পর বিদেশে পালিয়ে গেছেন।
আসামিপক্ষের বক্তব্য
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. আবদুল ওয়াসি মতিন বলেন, “আমার মক্কেলরা জামিনে ছিলেন এবং কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি। এ ছাড়া ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা অনেক মামলাই সরকার প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করব।”
রাষ্ট্রপক্ষের মন্তব্য
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইসরাত হোসেন সুমন বলেন, “আদালত মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় স্থায়ী জামিনের আবেদন নাকচ করেছেন।”

