ঈদের ছুটির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রেখে নিরবচ্ছিন্ন পণ্য খালাস ও জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। গত ১৭-২৩ মার্চ সাত দিনে ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইউএস (২০ ফুট হিসেবে) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্যের ২৮ হাজার ৯৬১ টিইউএস এবং রপ্তানি পণ্যের ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইউএস। ১৮ মার্চ সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইউএস কনটেইনার প্রসেস করা হয়েছে।
আজ বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, ওই সাত দিনে বন্দরে ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ মেট্রিকটন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্য ছিল ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ মেট্রিকটন এবং রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ মেট্রিকটন। ১৮ মার্চ একদিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।
এ সপ্তাহে ৬৪টি জাহাজ বন্দরে বার্থিং ও হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ ১৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয় এবং ছুটির আমেজ কাটিয়ে ২৩ মার্চ পুনরায় ১২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করে বন্দর তার পূর্ণ গতিতে ফিরে এসেছে।
ঈদের ছুটির মাঝে ২১ মার্চ কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও, পরবর্তী দুই দিনেই (২২ ও ২৩ মার্চ) জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২৪ মার্চ বন্দরের ৫৯ হাজার টিইউএস ধারণক্ষমতার বিপরীতে ছিল ৪৩ হাজার ২০০ টিইউএস।
এর মধ্যে ৩৬ হাজার ২৫৩ টিইউএস পূর্ণ (এফসিএল) কনটেইনার, ২ হাজার ৬৫৪ টিইউএস ডিপো কনটেইনার এবং ১ হাজার ৬৫২ টিইউএস খালি কনটেইনার। আইসিডি কমলাপুরগামী ৫১২ টিইউএস কনটেইনার বর্তমানে বন্দরে অবস্থানের তালিকায় রয়েছে। পণ্য খালাসের ক্ষেত্রেও গতিশীলতা বজায় রয়েছে; গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৮১ টিইউএস কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৫২৫ টিইউএস ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
বন্দর সচিব জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে সম্প্রতি কর্মবিরতি ও জাহাজের আগমনের হার বাড়ার ফলে জাহাজের ওয়েটিং টাইম দুই বা তিন দিনে উন্নীত হয়। তবে বর্তমানে কর্তৃপক্ষের সার্বিক মনিটরিং এবং সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাঙ্করেজে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় পুনরায় শূন্য দিন অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, যা বন্দরের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

