পত্রিকার পাতা
ঢাকাবুধবার , ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

উত্তরাঞ্চলে নদী পর্যটনে বিদেশি পর্যটকদের আগমন

Md Abu Bakar Siddique
ডিসেম্বর ৬, ২০২৫ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কখনো দৃষ্টি সীমায়, কখনো বা তার বাইরে থাকা তীর যেমন টানে পর্যটকদের, তেমন বড় বড় চরে হাঁটার সুযোগও কম আনন্দের নয়। জ্যোৎস্না রাতে শান্ত নদীতে নৌকায় বেড়ানো আর সেই সঙ্গে যদি থাকে একই নদ বা নদীতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ তাহলে তো কথাই নেই।শীতের শুরুতে এ রকম হাজারো প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ আছে যমুনা নদীসহ ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বেশ কয়েকটি নদ-নদীতে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অনেকেই নৌকা ভ্রমণে আগে এসেছেন দেশের উত্তরাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনাসহ অন্যান্য নদ-নদীতে। তবে হাওর অঞ্চলের হাউস বোট হিসেবে পরিচিত দুটি নৌযান নিয়ে প্রথমবারের মতো ১৩ সদস্যের একটি বিদেশি পর্যটক দল বগুড়া, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে বেড়াতে যান যমুনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের দুই তীরের বিভিন্ন এলাকায়। ইতালির ১৩ নাগরিক চরাঞ্চল বা নদ-নদীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে যেমন জানার চেষ্টা করেন তেমনি রংপুর, গাইবান্ধা ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় গেছেন এ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে।

দেশি-বিদেশ পর্যটকদের নিয়ে বহু বছর ধরেই কাজ করছেন সৈয়দ রিয়াজুল হক। বাংলাদেশ ইকো অ্যাডভেঞ্চার নামে একটি ট্যুরিজম কোম্পানিতে রিসার্চ ও প্ল্যানিং ইউনিটে কাজ করেন তিনি। সৈয়দ রিয়াজুল হক জানান, তিনি বহু বিদেশিকে নিয়ে গেছেন দেশের বিভিন্ন ট্যুরিস্ট পয়েন্টে। যারা তার সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় গেছেন তাদের অনেকেই এ দেশের সুন্দর প্রকৃতি আর ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে এসেছেন বারবার। যারা বাংলাদেশে কয়েকবার এসেছেন তাদের একজন ইতালির নাগরিক জিয়ানকারলো মিয়োনি। তিনি নিজেও একজন ট্যুর অপারেটর। ১৩ সদস্যের বিদেশিদের এ দলের অন্য সদস্যরা গত ৯ নভেম্বর বগুড়ায় আসার আগে গেছেন ঢাকায় আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, সোনারগাঁ ও সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে সমস্যা এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে জিয়ানকারলো মিয়োনি ব্যক্তিগতভাবে অনেকগুলো বিষয় লক্ষ করেছেন। বাংলাদেশ পর্যটনশিল্পে চিহ্নিত সমস্যাগুলো কীভাবে কেটে ওঠা সম্ভব। কীভাবে সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে এ শিল্পকে সম্বৃদ্ধ করা যায়- এসব বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছেন, গেছেন সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন ট্যুরিস্ট পয়েন্টে। আপনার দৃষ্টিতে পর্যটনশিল্পের সমস্যাগুলো কী এ প্রশ্নের উত্তরে জিয়ানকারলো বলেন, ‘আমার কাছে যেটি প্রধান সমস্যা বলে মনে হয়েছে তা হলো রাস্তায় যানজট। ট্যুরিস্ট পয়েন্টগুলোয় পর্যটকদের হ্যান্ডেল করার মতো প্রশিক্ষিত যথেষ্ট জনবল নেই। হোটেল-মোটেলগুলোর ভাড়া তুলনামূলকভাবে বেশি, নিরাপত্তার অভাবও রয়েছে অনেক ট্যুরিস্ট পয়েন্টে।’ এসব সমস্যা সমাধানে আপনার পরামর্শ কী এ প্রশ্নের জবাবে জিয়ানকারলো বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন যানবাহন চালক ও যাত্রীদের সড়ক আইনকে গুরুত্ব দেওয়া। তাতে শুধু পর্যটক নয় সবারই সুবিধা হবে, আমরা যারা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে পর্যটক হিসেবে আসি তাদের হাতে সময় থাকে খুব কম। সে কারণে পথে সময় বেশি নষ্ট হলে যেতে পারি না পছন্দের সব জায়গায়। পর্যটকদের হ্যান্ডেল করার জন্য স্থানীয় জনসাধারণের ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে তারা তাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে। তবে সবগুলো বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হলে অন্যান্য ট্যুরিস্ট পয়েন্টের পাশাপাশি নদী পথেও দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে।’

 

সৈয়দ রিয়াজুল হকের কাছে প্রশ্ন ছিল এ খাতে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কী প্রয়োজন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধান সমস্যা সড়কে যানজট, যে কারণে সময়মতো নির্দিষ্ট গন্তব্য পৌঁছানো যায় না, ফলে বিরক্ত হোন বিদেশি পর্যটকরা।’ নদ-নদীর প্রতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ কেমন এবং দেশের উত্তরাঞ্চলে ক্রুজ ট্রাভেলিং প্রসারের সম্ভাবনা কতটা এ প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ রিয়াজুল হক বলেন, ‘বড় বড় সব নদ-নদীতেই ক্রুজ ট্রাভেলিংয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ- বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে।’ তিনি জানান, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও পদ্মা অববাহিকায় সুন্দর সুন্দর অনেক নদী আছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব হলে ক্রুজ ট্রাভেলিং যথেষ্ট সম্ভাবনাময় একটি উপ-খাত হতে পারে।

সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে যারা প্রথমের দিকে হাউস বোট চালু করেন তাদের মধ্যে উল্লাস ট্রাভেল অ্যান্ড গোজবাই হলিডে ও পথিক এক্সওয়াইজেড। ৪-৫ বছর আগে হাওরে তারা হাউস বোট সুবিধা চালু করেন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য।

হাউস বোট ব্যবসা কেমন এ প্রশ্নের জবাবে পথিক এক্সওয়াইজেড চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) মাহবুব আলম পাপন বলেন, ‘বর্ষায় ব্যবসা ভালো হয়। কারণ তখন হাওর পানিতে থাকে ভরা। শুকনো মৌসুমে বোটগুলো নেওয়া হয় মাওয়া এলাকায়। তুলনামূলকভাবে শুকনো মৌসুমে ব্যবসা কিছুটা খারাপ হয়। কিন্তু লোকসান হয় না।’ তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে যেহেতু উত্তরাঞ্চলে নদ-নদীগুলো শান্ত থাকে সে কারণে বগুড়াসহ অন্য জেলাতেও হাউস বোট নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছি। কারণ এ বোটকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্পের বিকাশ হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। উত্তরাঞ্চলেও বিকাশের সুযোগ আছে। উল্লাস ট্রাভেল অ্যান্ড গোজ বাই হলিডের সিইও হাসানুর রহমান উল্লাস। তার সঙ্গে কথা হয় যমুনা নদীতে তার বোটে বসেই। উত্তরাঞ্চলে নদ-নদীগুলোয় হাউস বোট নির্ভর পর্যটনের কতটা সম্ভাবনা দেখেন এ প্রশ্নের উত্তরে হাসানুর রহমান উল্লাস বলেন, একসময় হাওরে এ বোট ছিল না। কিন্তু এখন আছে এবং ব্যবসাও খারাপ নয়। শুধু হাউস বোট সুবিধা থাকায় বর্ষাকালে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক যান হাওর এলাকায়। উত্তরাঞ্চলে এ ব্যবসার সম্ভাবনা কতটা এ প্রশ্নের জবাবে হাসানুর রহমান উল্লাস বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। সে কারণে নদ-নদীর সৌন্দর্য সবাইকে আকৃষ্ট করে বলেই হাওরের মতোই মাওয়া এলাকায় নদী নির্ভর পর্যটনের বিকাশ হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে এ ধরনের বোট সুবিধা থাকলে আরও ভালো হতো।

সৌরভ ইশতিয়াক, পর্যটন সেক্টরে তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি স্বত্বাধিকারী ঘুরিং ফিরিং ট্রাভেলসের। উত্তরাঞ্চলে নদীনির্ভর পর্যটনের সম্ভাবনা কেমন এ প্রশ্নের উত্তরে তরুর এ উদ্যোক্তা বলেন, উত্তরবঙ্গে রিভার ট্যুরিজম এখনো অপ্রচলিত। তাই এখানে নতুন কিছু গড়ে উঠার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এখানকার চর, নদী, প্রাকৃতিক নিসর্গ এবং মানুষের সহজ-সরল জীবন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। তাই আমার বিশ্বাস এখানে রিভার ট্যুরিজমের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।