এজেন্ট ব্যাংকিং
গ্রামে তথা মানুষের দোরগোড়ায় এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা হয়ে উঠেছে একটি অত্যন্ত সুন্দর সেতুবন্ধন।
এর উপকারিতা:
১) আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি: এজেন্ট ব্যাংকিং অনাবদ্ধ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার সাথে যুক্ত করে, শহরের ব্যাংকিং সুবিধা ও গ্রামীণ অনুন্নত এলাকার মধ্যে ব্যবধান কমায়।
২) নিকটতা ও সহজ প্রাপ্যতা: এজেন্ট আউটলেটগুলো স্থানীয় পরিচিত স্থানে (যেমন গ্রাম্য বাজারে) অবস্থিত হওয়ায় গ্রাহকদের দূরে ব্যাংক শাখায় যেতে হয় না।
৩) গ্রাহকের জন্য ব্যয় সাশ্রয়ী: এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্টে লেনদেন সাধারণত প্রচলিত ব্যাংক শাখা বা অন্যান্য আর্থিক মাধ্যমের তুলনায় কম খরচে করা যায়।
৪) নিরাপদ লেনদেন (বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি): এজেন্ট আউটলেটগুলোতে POS মেশিন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও পিন প্যাডসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, যা জালিয়াতি কমায় এবং আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র না থাকলেও নিরাপদে লেনদেন সম্ভব করে।
৫) দীর্ঘ সময় সেবা প্রদান: প্রচলিত ব্যাংক শাখার তুলনায় এজেন্ট আউটলেটগুলো বেশি সময় খোলা থাকে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের জন্য সুবিধাজনক।
৬) সহজ রেমিট্যান্স বিতরণ: এজেন্ট ব্যাংকিং দ্রুত বর্ধনশীল একটি মাধ্যম হিসেবে বৈদেশিক রেমিট্যান্স গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেখানে সুবিধাভোগীরা দ্রুত এবং অনেক ক্ষেত্রে বিনা খরচে নগদ অর্থ পেতে পারেন।
৭) সহজে হিসাব খোলা ও পরিচালনা: গ্রাহকরা সহজেই হিসাব খুলতে পারেন এবং নিকটস্থ স্থানে জমা, উত্তোলন ও ব্যালেন্স যাচাইসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারেন।
৮) ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সহায়তা: এজেন্ট ব্যাংকিং ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ ও আদায়ে সহায়তা করে, যা উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করে।
৯) ব্যাংকের জন্য অবকাঠামো ব্যয় কম: নতুন শাখা স্থাপনের উচ্চ ব্যয় ছাড়াই ব্যাংকগুলো তাদের সেবা বিস্তৃত করতে পারে, যা দুর্গম বা অনুন্নত এলাকায় টেকসই সেবা প্রদান সম্ভব করে।
১০) সরকারি সেবা প্রদান সহজতর: এসব আউটলেটের মাধ্যমে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা, পেনশন বিতরণ এবং ইউটিলিটি বিল সংগ্রহ করা হয়।
কিন্তু এটিকে অত্যন্ত নজরদারির মধ্যে রেখে টেকসই সেবা প্রদান করাই হবে এর মূল লক্ষ্য, যাতে করে মানি লন্ডারিং তথা অন্য কোনো ফ্রড ও ফরজারি (fraud, forgery) এই চ্যানেলে না হতে পারে।
সেবার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জকেও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।
বাচ্চু শেখ
সিনিয়র ব্যাংকার

