ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন মানুষের জীবনকে যতটা সহজ করেছে তেমনি কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, টাকা ছাপানো, সংরক্ষণ, সারা দেশে পরিবহন ও বণ্টনে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। রাষ্ট্রের এ বিপুল খরচ বাঁচাতে হলে নগদ অর্থ ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে হবে। ক্যাশলেস বা নগদ অর্থ ছাড়াই লেনদেন বাড়াতে হবে। লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানো, ঝুঁকিমুক্ত কম খরচ ও দ্রুত করতে আধুনিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত শহরকেন্দ্রিক নাগরিকরা কার্ড ছাড়া নিজেদের অচল মনে করেন। তবে নগদবিহীন লেনদেনে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে মোবাইল ব্যাংকিং এবং পরবর্তী সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিং। এর প্রচার-প্রসারের ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানুষ নগদবিহীন লেনদেনে অভ্যস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপান্তর শুধু সময়ের দাবি নয় বরং অর্থনৈতিক দক্ষতা ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগদবিহীন অর্থনীতিকে পুরো দেশে ছড়িয়ে দিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাত ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আজকের দিনে একজন গ্রাহক শাখায় না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এটিএম কিংবা কিউআর কোডের মাধ্যমে অধিকাংশ ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন এক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া, যেখানে গ্রাহক তার হাতের মুঠোয় থাকা ফোন থেকেই ব্যাংকিং লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে ঋণ আবেদন কিংবা বিল পরিশোধ সবই। এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আর্থিক সাশ্রয়ের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি নগদবিহীন বা ক্যাশলেস লেনদেনের ব্যবস্থা জোরদারে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। নগদবিহীন ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে যে ধরনের ঝুঁকি রয়েছে তা মোকাবিলার জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে উচ্চব্যয়, দুর্বল অবকাঠামো অর্থাৎ স্মার্টফোনের স্বল্পতা, সেই সঙ্গে মোবাইল কোম্পানিগুলোর দুর্বল নেটওয়ার্কের ফলে নগদবিহীন লেনদেনের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সরকার এ ক্ষেত্রে প্রণোদনা দিতে পারে- যাতে দেশের তৃণমূল জনগোষ্ঠী ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মানুষ এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে। কার্ডে লেনদেন করতে গিয়ে যাতে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি পোহাতে না হয় সে জন্য সাইবার নিরাপত্তার দিকটি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। দেশে নগদবিহীন ঝুঁকিমুক্ত লেনদেন কার্যক্রম প্রতিষ্ঠায় সরকার সফল হবে, এটিই প্রত্যাশা।

