মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র সংঘাতের মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক অভিযান চালানো হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রকাশিত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প নতুন করে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতেই ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর হামলা চালানো হবে। তাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি তাদের আক্রমণাত্মক সক্ষমতার বড় অংশও ধ্বংস হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে আমরা খার্গ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করব। ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।’
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খার্গ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর একটি। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌ-মাইন এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।
এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার প্রথম দফা হামলার পর বুধবার রাতেও ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর বোমা হামলার খবর পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ট্রাম্পের সর্বশেষ এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে সরাসরি সংঘাত তীব্র হলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানির মূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপরও পড়তে পারে।


