পটুয়াখালীর বাউফলে দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা মো. জালাল হাওলাদার। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে থাকলেও দলীয় নেতাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোশারফ হোসেন লিটন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত পটুয়াখালী-২ আসনে দশ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদের উঠান বৈঠকে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন জালাল হাওলাদার।
যোগদান অনুষ্ঠানে মো. জালাল হাওলাদার বলেন, দলের নেতাদের অবহেলা ও মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর দলের দুর্দিনে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, কিন্তু বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতা তাদের দেখাশোনা করেন না এবং আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের পাশে থাকছেন না।
তিনি বলেন, ‘যারা বিগত ১৭ বছর আমাদের ওপর হামলা-মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছেন, তাদের সঙ্গেই দলের কিছু নেতাই চলাফেরা করছেন। এ কারণেই আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি। আগামীতে জামায়াতের পক্ষে কাজ করব।’
এ সময় বগা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য আবুল কালাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এস এম আমিনুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল খান, বগা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক শরীফসহ প্রায় তিন শতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকও জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি নবাগতদের হাতে উপহার হিসেবে জমজম কূপের পানি ও সৌদি আরবের খেজুর তুলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বগা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তসলিম তালুকদার বলেন, ‘যদি কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে পদ-পদবী ধরে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

