পত্রিকার পাতা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

দ্বিনের কাজে অটল থাকার উপায়

Sun this Ja ham
মার্চ ২৫, ২০২৬ ২:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এটি নিঃসন্দেহে এক বিরাট সৌভাগ্য এবং আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের কথা যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাকে তাঁর ইবাদত, দ্বিনের খেদমত এবং দাওয়াত ও শিক্ষা প্রদানের তাওফিক দিয়েছেন।

এই নিয়ামতের প্রকৃত মূল্য কেবল সেই ব্যক্তি বুঝতে পারে, যে তা থেকে বঞ্চিত হয়। যে হৃদয় এই নিয়ামতকে চিনে নেয়, সে সর্বদা কৃতজ্ঞতার অশ্রু ঝরায় এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে এর সংরক্ষণ করে- তার জন্য এই নিয়ামত শুধু অবশিষ্টই থাকে না, বরং আল্লাহ তাআলা এতে আরো বৃদ্ধি দান করেন।

মানুষের কর্মজীবনে এমন সময় আসে যখন নফস ও শয়তান নানা কৌশল ও কুমন্ত্রণা দিয়ে তার অঙ্গীকারকে দুর্বল করতে চায়। দ্বিনের কাজ করা লোকেরাও এর হাত থেকে নিরাপদ থাকে না; বরং কখনো নিজেরাই এমন এক মানসিক ফাঁদে পড়ে যায় যে মনে হতে থাকে- হয়তো আমি আগের মতো সক্রিয় নই, আমার উদ্যম কমে গেছে, কিংবা আমি কাজে গাফিল হয়ে যাচ্ছি।

এ ধরনের চিন্তা অনেক সময় তিনটি পথ দিয়ে হৃদয়ে প্রবেশ করে এবং যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তবে ধীরে ধীরে এগুলো সাহস ও অটলতা দুর্বল করে দেয়।
প্রথমত, কখনো কখনো মানুষ দ্বিনের কাজে আগের মতো অনুভূতি বা লাজাওয়াব স্বাদ পায় না। তখন মনে হয়, হয়তো কাজটি এখন সঠিকভাবে হচ্ছে না বা এর বরকত কমে গেছে। অথচ এটি শয়তানের এক সূক্ষ্ম ও অত্যন্ত বিপজ্জনক আঘাত।

যদি সে সময়ে মানুষ এ সত্যটা বুঝে নেয় যে দ্বিনের কাজ আসলে আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর হুকুম মানা এবং আনুগত্যের মানদণ্ড এ নয় যে হৃদয়ে কতটা উচ্ছ্বাস জাগল; বরং এ যে আল্লাহর হুকুম পালন হলো কি না- তাহলে এই কুমন্ত্রণা নিজে থেকেই নিস্তেজ হয়ে যায়। ইবাদতের আসল সত্তা হলো ‘বন্দেগি’, আর বন্দেগির মানে হচ্ছে যখন রব কোনো কাজের হুকুম দেন, তখন বান্দা তার সাধ্য অনুযায়ী তা সম্পন্ন করবে-  হৃদয়ে আনন্দ বা উচ্ছ্বাস থাকুক বা না থাকুক, আর তাতে প্রাকৃতিক তৃপ্তি আসুক বা না আসুক।

দ্বিতীয়ত, মাঝেমধ্যে মনে হয়, কাজের পরিমাণ না বাড়ায় আমি হয়তো পিছিয়ে যাচ্ছি। অথচ এই ধারণা সব সময় সঠিক নয়। জীবনে প্রতিদিন কাজের পরিমাণ বেড়েই যাবে- এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যেমন- কেউ নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট আয় করে, তাহলে মাস শেষে তার কাছে সেই নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা হবে, যদিও প্রতিদিনের আয় বাড়ছে না। একইভাবে দ্বিনের কাজেও যদি কেউ স্থির গতিতে এগিয়ে যায় এবং মান কমানোর বদলে একটি নির্দিষ্ট মান ধরে রাখে, তবে এটিও বড় সফলতা। কখনো কখনো স্থিতিশীলতা (ইস্তেকামাত) বাড়তে থাকা গতির চেয়ে বেশি মূল্যবান হয়।

তৃতীয়ত, আমরা অনেক সময় দ্বিনের কাজকে কিছু সীমিতরূপে সীমাবদ্ধ করে ফেলি। অথচ দ্বিনের খেদমত কেবল ওয়াজ-নসিহত বা পড়ানো-লেখানোর নাম নয়। ঘরের ভেতরে সন্তানদের লালন-পালন, তাদের জ্ঞান ও চরিত্রের উন্নয়ন, বিয়েশাদির বিষয়ে দিকনির্দেশনা, পরিবার ও পাড়া-পড়শির সমস্যায় সহানুভূতি ও সংশোধনের প্রচেষ্টা- এসবও দ্বিনের খেদমত। দ্বিনের পরিসর অনেক বিস্তৃত এবং যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে এর যেকোনো একটি ক্ষেত্রেও পরিশ্রম করে, সে ঠিক সেই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়, যারা দ্বিনের জন্য কাজ করছে।

আসল কথা হলো, মানুষ যেন ফরজ আমলগুলোতে দৃঢ় থাকে; নামাজ, রোজা, জাকাত, কোরআনের গভীরভাবে অনুধাবন এবং অন্যান্য আবশ্যক দায়িত্ব যথাযথ যত্নের সঙ্গে আদায় করতে থাকে। এগুলোই সেই স্তম্ভ, যা মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী রাখে। যখন এই ভিত্তি মজবুত হয়, তখন এর সঙ্গে যতটুকু দাওয়াত, শিক্ষা ও সংশোধনের কাজ করা সম্ভব হয়, তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়। আর যদি কোনো সময়ে আগের মতো নিয়মিতভাবে সবকিছু করা সম্ভব না হয়, তবে তা ক্ষতির কারণ নয়, কারণ আল্লাহ তাআলা অল্প কাজেও বরকত দান করেন, যখন তা আন্তরিকতার সঙ্গে করা হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।