পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১১ রানের জয় পেয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত ম্যাচে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা ৫ উইকেট নেওয়ার পর শেষ ওয়ানডেতেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ২ উইকেট শিকার করেন তিনি।
সব মিলিয়ে সিরিজে ৮ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ পুরস্কার জিতেছেন নাহিদ। তার বোলিংয়ের সামনে বিপর্যস্ত হয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি মন্তব্য করেছেন— যথাযথ পরিচর্যা পেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধান ম্যাচজয়ী বোলার হয়ে উঠতে পারেন এই তরুণ পেসার।
মিরপুরে সিরিজের প্রথম ম্যাচে একাই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন নাহিদ। আগুনঝরা গতিতে সফরকারী দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে আউট করে তিনি গড়েন অনন্য রেকর্ড। মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।
পরবর্তী দুই ম্যাচেও ধারাবাহিক বোলিং করে বাংলাদেশকে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে বড় ভূমিকা রাখেন ২৩ বছর বয়সী এই পেসার। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক ও বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার আফ্রিদি।
সিরিজের শেষ ম্যাচ শেষে টি স্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি পেসার নাহিদের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নাহিদ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় প্রতিভা। তাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত। প্রতিটি ম্যাচে খেলানোর বদলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ব্যবহার করলে সে দলের প্রধান ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারবে।”
সদ্য সমাপ্ত এই সিরিজের উইকেট পাকিস্তান দলের জন্য কিছুটা বিস্ময়কর ছিল। কারণ গত বছরের অক্টোবরে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে পুরোপুরি স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলেছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে সবুজ ঘাসে ঢাকা পেস-সহায়ক উইকেটে খেলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন কুমার দাসরা। এই উইকেটে ব্যাটার ও বোলার— উভয়ের জন্যই প্রায় সমান সুবিধা ছিল, যা আফ্রিদিকেও কিছুটা বিস্মিত করেছে।
তিনি বলেন, “তারা এখানে সর্বশেষ যে সিরিজটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিল, পুরো ৫০ ওভার স্পিনার দিয়ে করিয়েছিল। আর এবার ছিল সবুজ উইকেট। তবে ব্যাটিংয়ের জন্যও উইকেট ভালো ছিল। সব মিলিয়ে ম্যাচটি উপভোগ্য ছিল।”

