সবাই যে ক্যারিয়ার হিসেবে চাকরিকেই বেছে নেন তা নয়, অনেকে স্বপ্ন দেখেন ব্যবসায় ক্যারিয়ার গড়ার। চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে পড়েও অনেকে ব্যবসা শুরু করে থাকেন।নিঃসন্দেহে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণরা আমাদের মতো একই ধরনের চাকরি বা কাজ করবে না, বরং তখন কাজের ধরন আর দক্ষতার প্রয়োজন সম্পূর্ণ আলাদা হবে। ইতোমধ্যে আমরা নতুন প্রজন্মের জন্য উপযুক্ত চাকরির জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছি। এখনকার তরুণ প্রজন্ম ভালো কাজ খুঁজে পেতে সমস্যা অনুভব করছে এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্পর্কে পরামর্শ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে।
চাকরি মানেই শৃঙ্খল। এখানে প্রতিষ্ঠানের পলিসি অনুযায়ী চলতে হয়। সুতরাং ব্যক্তিস্বাধীনতা বিসর্জন দেওয়ার জন্য এখানে তৈরি থাকতে হয়। তাই তরুণ প্রজন্মদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন ব্যবসা ও আইডিয়া নিয়ে চমকে দিচ্ছেন অনেকে।তবে ব্যবসায় সফলতা পেতে চাইলে শিক্ষাজীবন থেকেই প্রস্তুতি থাকা দরকার। ব্যবসায় পড়াশোনা করে সার্টিফিকেট অর্জন করলেও এমন কিছু গুণ বা দক্ষতা নিজের ভেতরে থাকতে হবে, যাতে একটি ব্যবসা শুরু করার বা দায়িত্ব নিতে পারেন আপনি। ব্যবসাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চাইলে একজন শিক্ষার্থীকে নিচের যোগ্যতাগুলো অর্জন করতে হবে।
১. যোগাযোগের দক্ষতা
যোগাযোগ দক্ষতা ছাড়া ব্যবসায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যায় না বললেই চলে। বর্তমান অনলাইন দুনিয়ায় বহুমুখী যোগাযোগের প্রসার ঘটেছে। সেগুলোর সঙ্গে আপনার পরিচয় থাকাটা জরুরি। যেকোনো মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগে আপনাকে পারদর্শী হতে হবে। যোগাযোগের দক্ষতা একজন ব্যক্তির পারফরম্যান্স, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তার আশপাশের থাকা অন্যদেরও অনুপ্রেরণা জোগায়।
এখন কীভাবে আপনার যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াবেন? শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন। ক্লাসে প্রেজেন্টেশনের কাজগুলো মনোযোগ দিয়ে করতে পারলে যোগাযোগে আপনার ভীতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব।
২. দলের সঙ্গে কাজ করা
একটি ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান মানে হচ্ছে অনেক মানুষের সঙ্গে কাজ করা এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা। ফলে দলের সঙ্গে কাজ করতে আপনাকে অভ্যস্ত ও আন্তরিক হতে হবে। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে এদিকে আপনি এগিয়ে থাকবেন। আবৃত্তি, বিতর্ক সংগঠন বা রক্তদান কর্মসূচি, বিনামূল্যে শিক্ষাদানের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গেও নিজেকে যুক্ত করতে পারেন। দলবদ্ধ এসব কাজ গুরুত্ব দিয়েই করা উচিত। তাহলে একটি দলের হয়ে কাজ করা বা দলের দায়িত্ব পালন করার মধ্য দিয়ে নিজেকে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করে নেওয়া সহজ হয়ে যায়।
৩. খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রবণতা
ব্যবসায় নামলে আপনাকে অনেক ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে পারে। পড়তে হতে পারে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। এমন মুহূর্তে সহনশীলতার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অল্পতেই ভেঙে পড়লে চলবে না, এতে পিছিয়ে পড়তে পারেন আপনি। ব্যবসার সঙ্গে আর্থিক বিনিয়োগও জড়িত, ফলে ক্ষতির বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সমাধানে কৌশলী হতে হবে।
৪. সমস্যা সমাধানের চেষ্টা
যেকোনো প্রতিষ্ঠানে বা ব্যবসায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে আপনাকে এবং সেগুলো সমাধানও করতে হবে। সমস্যাকে যথাযথভাবে নিরূপণ করতে পারে এবং এর সঠিক সমাধান বের করতে পারাটাও বড় ধরনের যোগ্যতা। এদিকে আপনাকে এগিয়ে থাকতে হবে। যোগাযোগের দক্ষতা, দলবদ্ধ হয়ে কাজ করা- এসব বিষয় আপনাকে সহায়তা দেবে। আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান আপনাকে বের করে আনতেই হবে যেভাবেই হোক।
৫. নেতৃত্ব
পৃথিবীর প্রত্যেকটি কর্মক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দেওয়ার মতো লোকের প্রয়োজন হয়। একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালানো বা নেতৃত্ব দেওয়া স্বাভাবিকভাবেই বেশ কঠিনতর কাজ। বহুমুখী যোগ্যতার মানুষ হতে হয় তাকে। একজন বিচক্ষণ, কৌশলী এবং পরিশ্রমী মানুষই পারেন একটি প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিতে। প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাকে যথাযথ নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীলও হতে হয়। শিক্ষাজীবনে নানা ধরনের সৃজনশীল, স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড, খেলাধুলাসহ নানা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এমন নেতৃত্ব অর্জন করা সম্ভব।

