এবার দুই মাসের জন্য খুলছে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। তবে পরিবেশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত ১২ নির্দেশনা মেনে চলার শর্তে প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটককে এই দ্বীপে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল সোমবার থেকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট হয়ে সেন্ট মার্টিনমুখী জাহাজ চলাচল শুরু হবে। এদিকে রাতযাপনসহ পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিন উন্মুক্ত করে দেওয়ায় উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে ওই দ্বীপে। আট বর্গকিলোমিটারের আয়তনের এই দ্বীপে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ ছিল। পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণে গত বছর থেকে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনব্যবস্থা চালু করে সরকার। সেই নীতিমালার আওতায় গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সীমিত আকারে পর্যটকদের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে দ্বীপে রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যায়নি। ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখেন মালিকরা।
জাহাজমালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংঘাতের কারণে ২০২৩ সাল থেকে টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরে ইনানীর নৌবাহিনীর জেটিঘাট হয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। গত বছর থেকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি থেকেই সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ পরিচালিত হচ্ছে। সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, গত বছরের ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে এক লাখের বেশি পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করেছিলেন। এবার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মালিকরা ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে জাহাজ পরিচালনা করবেন।সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘ ১০ মাস পর আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছি। ১ ডিসেম্বর থেকে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আমাদের সেন্ট মার্টিন আসবেন। তাদের বরণে প্রস্তুত রয়েছি আমরা।’
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ‘রাতযাপনের সুবিধাসহ পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিন উন্মুক্ত করায় এখনকার অর্থনীতি একটু ঘুরে দাঁড়াবে। আমরা চাই দুই মাস নয়, অন্তত চার মাস পর্যটকদের জন্য রাতযাপনসহ এই দ্বীপ উন্মুক্ত রাখা হোক।’ কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানান, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন এই চার জাহাজকে সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার রুটে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় জারি করা সব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন মাঠে থাকবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দ্বীপ ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
বিআইডব্লিউটিএ এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলাচল করা যাবে না। ট্যুরিস্টদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট কিউআর কোডসহ সংগ্রহ করতে হবে। সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ বা বারবিকিউ- সবই নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ, প্রবাল, কাছিম, পাখি, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যেকোনো যান চলাচল নিষিদ্ধ। পলিথিন এবং ওয়ান টাইম প্লাস্টিক নেওয়া যাবে না। ৫০০ ও ১ হাজার মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল বহন করা যাবে না।

