মিরপুরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১–১ সমতায় থাকায় শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ও পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল— উভয় দলের জন্যই ‘অঘোষিত ফাইনাল’-এ পরিণত হয়। রোমাঞ্চে ভরা এই ম্যাচে ছড়িয়ে পড়ে ফাইনালের উত্তাপ। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে শেষ হাসি হাসে বাংলাদেশ।
এই সিরিজ জয়ের ফলে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়।
ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই সিরিজে একটি ম্যাচেও সুযোগ পাননি সৌম্য সরকার। অথচ গত বছর বাংলাদেশের হয়ে সবশেষ ওয়ানডেতে ৯১ রান করেছিলেন তিনি। পুরো সিরিজে একাদশে সুযোগ না পাওয়ায় তাকে ঘিরে চলছে আলোচনা।
সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সৌম্যকে না খেলানোর কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই একজন খেলোয়াড় যেন ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পায়। সৌম্য গত সিরিজে খুব ভালো খেলেছে— এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে হয়তো কিছুদিন সে ছন্দে ছিল না।”
এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে সিরিজে না থাকলেও পাকিস্তান সিরিজে একাদশে ফিরে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। অন্যদিকে ওপেনার সাইফ হাসান প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৪ ও ১২ রান করলেও তাকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, “সাইফকে বসিয়ে যদি সৌম্যকে খেলাতাম, তাহলে দুটো সমস্যা হতো। সাইফের আত্মবিশ্বাস কমে যেত। আবার সৌম্য যদি খারাপ খেলত, তাহলে তার জন্যও কঠিন হয়ে যেত।”
টিম ম্যানেজমেন্ট পুরো সিরিজে সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিমকে সুযোগ দিতে চেয়েছিল বলেও জানান তিনি। মিরাজ বলেন, “সাইফ একটু সংগ্রাম করছিল। তানজিদ তামিমও সর্বশেষ সিরিজে খেলেনি, তখন সৌম্য ও সাইফ ওপেন করেছিল। আমাদের পরিকল্পনা ছিল— যেহেতু তারা ছন্দে নেই, তাই তামিম ও সাইফকে দিয়েই ওপেন করানো হবে। এতে দলের জন্য সুবিধা হতো।”
তবে সুযোগ পেলে সৌম্য সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন অধিনায়ক। তিনি বলেন, “একজন ব্যাটারকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া উচিত— আমরা সেটাই করছি। তখন সে নিজেই নিজের অবস্থান বুঝতে পারবে। সৌম্য যখন আবার খেলবে, তখনও সে পর্যাপ্ত সুযোগ পাবে। এক ম্যাচ খেলেই বাদ পড়বে না। আমাদের পরিকল্পনা হলো— কেউ সুযোগ পেলে যেন অন্তত ৩–৪ ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় এবং নিজেকে প্রমাণ করতে পারে।”

