প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের লক্ষ্যে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এরপরও কেউ নিয়োগপত্র না পেলে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ সোমবার সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নির্বাচিত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন ও পদায়ন চলমান রয়েছে। যা ১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে। এরপরও কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যোগ্য প্রার্থীরাই চাকরির সুযোগ পাবেন এবং সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হবে।
বিদেশে মেধা পাচার বন্ধে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনায় সরকার এখন ‘রিভার্স ব্রেন ড্রেন’ নীতি গ্রহণ করেছে। উন্নত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ দেশে বৃদ্ধি করে বিদেশে যাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি এবং বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি—উভয় ক্ষেত্রেই অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংযুক্তিতে (অ্যাটাচমেন্ট) থাকা শিক্ষকদের পদায়ন ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে কিছু দাপ্তরিক বদলি সমন্বয় করা হয়েছে।
এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফলে প্রায় ৪ হাজার ৫৮৫ জন ফেল করা শিক্ষার্থী পাস করেছে। ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ ছাড়া গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। এ অসংগতির সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জবাবদিহি ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে চলতি বছর সারা দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার উপস্থিত ছিলেন।


