পত্রিকার পাতা
ঢাকাশুক্রবার , ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ন্যায্য বেতন কাঠামোই সামাজিক স্থিতির পূর্বশর্ত

Main Admin
অক্টোবর ২৫, ২০২৫ ১:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

✍ শেখ মুহাম্মদ জায়েদ আল ফাত্তাহ
ব্যাংকার | অর্থনৈতিক বিশ্লেষক | নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পত্রিকার  পাতা ও সাপ্তাহিক উদ্যোক্তা নিউজপেপার | পিএইচডি গবেষক, এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ

বাংলাদেশের প্রতিটি পেশাজীবী—শিক্ষক, পোশাক শ্রমিক, ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মচারী, কৃষক কিংবা দিনমজুর—সবার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু একটাই: ন্যূনতম সম্মানজনক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা।
কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সংগ্রাম করছে।ফলে একের পর এক খাত থেকে উঠছে অধিকার আদায়ের আন্দোলন—কখনো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের, কখনো শ্রমিকদের, আবার কখনো শিক্ষার্থীদের।
🔹 ন্যূনতম জীবনমানের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ:

একটি দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য নির্ভর করে তার “ন্যূনতম জীবনমানভিত্তিক মজুরি (Minimum Living Standard Wage)”-এর ওপর।
অর্থাৎ, একজন মানুষ ও তার পরিবার যেন অন্ততঃ

নিরাপদ বাসস্থান,

পর্যাপ্ত খাদ্য,

স্বাস্থ্যসেবা,

শিক্ষা, এবং ন্যূনতম সামাজিক মর্যাদা

এই মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারেন, সেই অনুযায়ীই তার বেতন বা মজুরি নির্ধারিত হওয়া উচিত। বাংলাদেশে এখন সময় এসেছে একটি “জাতীয় জীবনমান সূচক (National Living Standard Index)” প্রণয়ন করার, যার ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেক খাতের কর্মীর জন্য ন্যায্য ও অঞ্চলভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা যাবে—যাতে রাজধানী, জেলা শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের বাস্তব ব্যয়ের পার্থক্য প্রতিফলিত
🔹 অঞ্চল ও পারিবারিক কাঠামোভিত্তিক বেতন মডেল:
একজন গ্রামের শিক্ষক বা কৃষক হয়তো মাসে ১৫,০০০ টাকায় সংসার চালাতে পারেন,
কিন্তু একজন শহরের শিক্ষক, ব্যাংকার বা চিকিৎসক একই পরিমাণে টিকে থাকতে পারেন না। তাই প্রয়োজন অঞ্চলভিত্তিক বেতন সূচক (Urban–Rural Wage Index) প্রবর্তন। একই সঙ্গে, পারিবারিক কাঠামোভিত্তিক বেতন ব্যবস্থা প্রণয়ন করাও জরুরি। প্রত্যেক কর্মীর বেতন এমনভাবে নির্ধারিত হবে, যাতে তিনি নিজ, স্ত্রী/স্বামী ও দুই সন্তানের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন। এর বাইরে অতিরিক্ত পারিবারিক ব্যয় ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য হতে পারে।
🔹 CSR তহবিল ও বেসরকারি অংশগ্রহণ:
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে দেশের বড় বড় ব্যাংক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের CSR (Corporate Social Responsibility) তহবিল থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ “ন্যায্য বেতন তহবিল” হিসেবে বরাদ্দ করা যেতে পারে।
এই তহবিল ব্যবহৃত হতে পার

শিক্ষক ও শ্রমিক কল্যাণ, চিকিৎসা সহায়তা,গ্রামীণ কর্মজীবীদের সুরক্ষা, এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে।
🔹 পারফরম্যান্স ও ন্যায্যতার ভারসাম্যপ্রতিটি পেশায় কর্মদক্ষতা ও ন্যায্যতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, শিল্প—সব ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রণোদনা ও বোনাস ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।যেসব প্রতিষ্ঠান ফলাফল, শৃঙ্খলা ও সামাজিক অবদানে এগিয়ে থাকবে, তাদের কর্মীদের বিশেষ পুরস্কার বা বোনাস প্রদান করা হবে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদনশীলতা বাড়বে, তেমনি সমাজে পেশাগত মর্যাদা ও দায়িত্ববোধও বৃদ্ধি পাবে। ন্যায্য বেতন কাঠামো সামাজিক স্থিতি ও নৈতিকতার ভিত্তি ন্যায্য বেতন কাঠামো কেবল অর্থনৈতিক দাবি নয়—এটি সামাজিক স্থিতি ও নৈতিকতার মূলভিত্তি।যখন একজন কর্মজীবী মানুষ তার পরিবারকে সম্মানজনক জীবনযাত্রা দিতে পারেন, তখনই তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন।অন্যদিকে, অপ্রতুল আয় ও অনিশ্চয়তা থেকে জন্ম নেয় হতাশা, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয়।
🔹 উপসংহার:

জাতীয় উন্নয়ন মানে কেবল অবকাঠামো, রিজার্ভ বা প্রবৃদ্ধি নয়— বরং প্রতিটি নাগরিকের সম্মানজনক ও স্থিতিশীল জীবনমান নিশ্চিত করা।
এখন সময় এসেছে রাষ্ট্র, কর্পোরেট খাত ও জনগণ সবাই মিলে এমন একটি ন্যায্য বেতন কাঠামো গঠনের,
যাতে কেউ আর অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নামতে না হয়, বরং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে গর্ব, মর্যাদা ও স্থিতি খুঁজে পায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।