হামদ, নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকিরে মুখর হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রাম নগরী। বুধবার ভোর থেকেই নগরের ষোলশহর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষ জড়ো হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতিও। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম জশনে জুলুস।
তবে গত বছরের জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যুর ঘটনার পর এবার শুরু থেকেই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আয়োজকদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে এবারের জশনে জুলুস।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুস শুরু হয়। এতে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন।
১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এ জুলুসের প্রবর্তন করেন।
এবারের জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ।
ভোর থেকেই নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ জুলুসে অংশ নিতে ষোলশহর এলাকায় জড়ো হন। কেউ হেঁটে, আবার কেউ ট্রাক ও পিকআপে করে সেখানে আসেন। জুলুসকে ঘিরে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত ও দরুদ শরিফের সুর।
জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসে ভাসমান মেলা। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি, শরবত ও খাবার বিতরণ করা হয়। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক বিভাজকগুলো সাজানো হয় তোরণ, পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে।
জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয় অস্থায়ী শৌচাগার।
নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ষোলশহর থেকে জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে জুলুস ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে জশনে জুলুস ঘিরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও জুলুসের পথে গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কও নেওয়া হয়।
গত বছর জশনে জুলুসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। জুলুস চলাকালে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও অন্তত ছয়জন। ওই ঘটনার পর এবার জুলুস ঘিরে নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে এবার কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যেও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, জশনে জুলুস লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শেষ হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের প্রস্তুতি ছিল।


