সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি অনেক আগেই পেয়েছেন ‘গোট’ (গ্রেটেস্ট অব অল টাইম) তকমা। জাদুকরী ফুটবলে মুগ্ধ করে একের পর এক শিরোপা জিতেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবল—দুই জায়গাতেই রেখেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। অথচ আজকের মেসির ক্যারিয়ার শুরুর আগেই একসময় তাঁকে নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।
শৈশবের ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে একের পর এক শিরোপা জিতেছেন মেসি। উঠে এসেছেন ক্লাবটির খেলোয়াড় তৈরির ‘কারখানা’ হিসেবে পরিচিত লা মাসিয়া থেকে। তবে ২০০০ সালের শরতে বার্সেলোনায় ট্রায়াল দিতে এসে তাঁকে নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পেয়েছিলেন কোচেরা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাসি সাংবাদিক ফ্লোরেন্ত তুরসুত ২৬ বছর আগের তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।
কোচদের নাম উল্লেখ না থাকলেও ওই তিন প্রতিবেদনে মেসির দক্ষতা ও সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম প্রতিবেদন: দক্ষতায় মুগ্ধ কোচ
প্রথম কোচ মেসির ফুটবলীয় দক্ষতার প্রশংসা করেছিলেন। তাঁর মতে, কারিগরি দিক থেকে মেসি সমবয়সীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বয়সের তুলনায় কারিগরি দক্ষতায় তিনি অত্যন্ত পরিপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। তাঁর দৃষ্টিশক্তি, ক্ষিপ্রতা, বুদ্ধিমত্তা, ড্রিবলিং ও শটে শক্তির বিষয়গুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনের শেষ অংশেও ছিল প্রশংসা। তবে মেসির দুর্বল দিকও চিহ্নিত করেছিলেন ওই কোচ। তাঁর মূল্যায়ন ছিল, ‘পেনাল্টি বক্সের ভেতরে অসাধারণ। তার একমাত্র দুর্বলতা হলো খর্বকায় গড়ন এবং শারীরিক শক্তির অভাব। একজন অসাধারণ খেলোয়াড়।’
দ্বিতীয় প্রতিবেদন: দলে নেওয়ার পক্ষে ছিলেন না কোচ
দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি ছিল তুলনামূলক হতাশাজনক। ওই কোচ মেসির কারিগরি দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। তবে তাঁর আশঙ্কা ছিল, মেসির শারীরিক গঠন উন্নতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘তার খর্বকায় গড়ন (১৪২ সেন্টিমিটার) প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে খেলার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।’ এমনকি মেসির উচ্চতা ১৫০ সেন্টিমিটার হলেও বয়সে বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে তিনি পাল্লা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন ওই কোচ।
তাঁর চূড়ান্ত মত ছিল স্পষ্ট, ‘আমার মনে হয় না, তাকে দলে নেওয়া উচিত।’
তবে মেসির উন্নতির দিকে নজর রাখা এবং দুই বছর পর তাঁকে আবার মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছিলেন ওই কোচ।
তৃতীয় প্রতিবেদন: মেসির মধ্যে তরুণ ম্যারাডোনাকে দেখেছিলেন কোচ
ফ্লোরেন্ত তুরসুতের প্রকাশ করা তৃতীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসির সম্ভাবনা নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না ওই কোচের। বরং তাঁর প্রতিভা নিয়ে এতটাই আশাবাদী ছিলেন যে দ্রুত চুক্তি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন ক্লাবকে।
প্রতিবেদনে তিনি লিখেছিলেন, ‘এক অর্থে, সে একজন তরুণ ম্যারাডোনা। আমি তাকে দলে নিতাম। তার দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে। দেখা যাক, সে কীভাবে নিজেকে বিকশিত করে।’
বার্সেলোনা থেকে বিশ্বজয়
এরপর বার্সেলোনার হয়ে মেসি কী করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসের অংশ। ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগাসহ অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন তিনি। ২০২১ সালে দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে প্যারিস সাঁ-জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।
বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন মেসি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে জিতেছেন ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা ও ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথাও বলেছেন তিনি। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে তাঁর শিরোপার সংখ্যা ৪৮।


