ঢাকা, ১৯ অক্টোবর: অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নগদ প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনও ব্যাংক কর্মকর্তা অবলোপনকৃত ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে বকেয়া অর্থ আদায় করতে পারলে তিনি আদায়কৃত টাকার ৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ রবিবার (১৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়, যেসব ব্যাংকের এ ধরনের প্রণোদনা নীতিমালা নেই, তাদের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এই নির্দেশনা প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে।প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, একটানা দুই বছর ধরে ‘মন্দ’ বা ‘ক্ষতিজনক’ হিসেবে শ্রেণিকৃত ঋণকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রথা অনুযায়ী অবলোপনের সুযোগ রয়েছে। তবে অবলোপনের পরও পুরো অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবেই গণ্য হবেন।
অবলোপনের আগে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে অন্তত ৩০ কর্মদিবস আগে লিখিতভাবে নোটিশ দিতে হবে এবং ‘অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩’ অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে—যদি আগে করা না হয়ে থাকে।
এছাড়া, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (CEO) দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তাকে ‘অবলোপনকৃত ঋণ আদায় ইউনিট’-এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এই ইউনিটের মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা যাবে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পাবেন ব্যাংকের এমডি বা সিইও। বাকি অংশ ইউনিট প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অবলোপনযোগ্য ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়, ফলে ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং এই নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থায় ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণ আদায়ে আরও উৎসাহিত হবেন এবং খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

