মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীর কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনব্যাপী লাইভ-ফায়ার নৌ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রোববার থেকে শুরু হওয়ার কথা এই মহড়া। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক নৌবহর মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
ইরানের ঘোষণার পরপরই তেহরানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ সহ্য করবে না ওয়াশিংটন। বিশেষ করে মার্কিন রণতরীর ওপর দিয়ে ইরানি ড্রোন বা বিমান উড্ডয়ন, কিংবা ইরানি স্পিডবোটের কাছে আসাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বিবেচিত হবে।
বিজ্ঞাপন
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী, আঞ্চলিক অংশীদার কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজের আশপাশে অনিরাপদ আচরণ সংঘর্ষ, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
সেন্টকম আরও দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী বাহিনী। আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এরও একই আচরণ করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের ঘোষিত মহড়ার সময় সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহার করা হলেও তা যেন হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত না করে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মহড়া ও পাল্টা সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে আরও বাস্তব করে তুলছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

