আয় বাড়াতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ সত্ত্বেও রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের অনেকে এখন ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী দেশ ছেড়েছেন অথবা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ভ্যাটের উচ্চ হারের কারণে ব্যবসায় খরচ বেড়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও দূর হয়নি। করপোরেট করহারে চাপ কমেনি। শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না অনেকে। ফলে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়ছে না। অর্থনীতির বিশ্লেষক ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশে শিল্পে আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরের পর সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে সবচেয়ে কম বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) বাস্তবায়ন হয়েছে। এডিপিতে গতি নেই। অর্থনীতিতে গতি না বাড়লে রাজস্ব আদায় বাড়বে না। নির্বাচিত সরকার ছাড়া অর্থনীতিতে গতি আসবে না বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।
দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিগত সরকারের সময় থেকে শিল্পে বিনিয়োগের গতি কমেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নেই। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ হারের শুল্ক আরোপ করেছে, যা অনেক দেশ কমাতে সক্ষম হলেও আমাদের দেশ এখনো কমাতে সক্ষম হয়নি। শিল্পকারখানা ভালোভাবে গড়ে না উঠলে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ ভালো না হলে ব্যবসা করতে ভরসা পাবেন না ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতির উত্তরণ না হলে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে না। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকার ছাড়া অর্থনীতিতে গতি আসবে না। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে। দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা সে সরকারের ওপর আস্থা রাখবেন। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পে বিনিয়োগে গতি আসবে। এতে সরকারের আয় বাড়বে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকারের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক জটিল সমীকরণ। আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের কম্পেটিটিভনেস কমে যাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণে সরকারকে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং দক্ষ উপদেষ্টারা থাকবেন, যারা মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো বুঝে সমাধান দেবেন। সর্বোপরি নির্বাচিত সরকার ছাড়া ব্যবসায়িক আস্থা ফিরবে না- এটাই দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত।’
এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য সীমিত থাকায় রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া আমদানি কমে যাওয়ায় অগ্রিম আয়কর আদায়ও কমেছে। এদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার পরিমাণ কমায় আবগারি শুল্কেও পড়েছে এর প্রভাব। শিল্পে বিনিয়োগ কম হচ্ছে। শিল্পে কাঁচামাল ও পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় আমদানি শুল্ক আদায়ে ঘাটতি দেখা গেছে। ঘাটতি দূর করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থা ফেরাতে হবে। শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসায় আগ্রহী হলে সরকারের আয় নিশ্চিতভাবে বাড়বে। সরকার রাজস্ব আদায়ে এবং শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছি।

