পত্রিকার পাতা
ঢাকাসোমবার , ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

রোহিঙ্গাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন প্রত্যাবাসনে চাই টেকসই সমাধান

Md Abu Bakar Siddique
আগস্ট ২৬, ২০২৫ ৭:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রোহিঙ্গাসংকট বাংলাদেশের জন্য একটি জটিল সমস্যা। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন ১৩ লাখ। বছরে আরও প্রায় ৪০ হাজার করে নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিদিনই নতুন করে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। রাখাইনে জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জান্তাবাহিনীর চলমান সংঘাতের কবলে পড়ে গত এক বছরে নতুন করে এসেছে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় সীমান্তে প্রতিদিনই অপেক্ষা করে ৪ থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা। এর মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ বলে আসছে, রাখাইনে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানোর পরিবেশ নেই। লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা এ দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও সামাজিক কাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।

এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে আয়োজিত সম্মেলনের ভবিষ্যৎ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। নানামুখী অনিশ্চয়তার মধ্যেই কক্সবাজারের শুরু হয়েছে রোহিঙ্গাবিষয়ক তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মানবিক সহায়তা ও তাদের অধিকারের নিশ্চয়তা- প্রধানত এ তিন ইস্যু সামনে রেখে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে রাখাইনে চলছে জান্তাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সশস্ত্র সংঘাত। সেখানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নেই। ফলে এ ধরনের সম্মেলন থেকে কতটা ফল পাওয়া যাবে তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর সংশয়। নানা সমস্যা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নতুন এ উদ্যোগ রোহিঙ্গা ইস্যুতে আশার আলো সঞ্চার করবে।
তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে রাখাইনের ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মায়ানমার সরকারের হাতে নেই এসব অঞ্চলের ক্ষমতা।

গত বছর থাইল্যান্ডের বিমসটেক সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশ-মায়ানমারের বৈঠকে নতুন সম্ভাবনা দেখা যায়। তালিকাভুক্ত ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারকে ফেরত নেওয়ার যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে মায়ানমারের জান্তা সরকার। অথচ রাখাইনে জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। এরপরও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত রমজানে রোহিঙ্গাদের এক সমাবেশে বলেছিলেন, এই ঈদ না হোক, আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশে ঈদ করতে পারবেন।

চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও যেকোনো মূল্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাসে আপাতত স্বস্তি মিলছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে। তবে রাখাইনের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি এবং আলোচনায় কার্যত কোনো অগ্রগতি না থাকায় ভরসা পাচ্ছেন না তারা। মায়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় সীমান্তে হাজার হাজার রোহিঙ্গা জড়ো হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরতে কতটা আগ্রহী হবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা আছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, প্রত্যাবাসন কোথায় হবে, কীভাবে হবে এটা পরিষ্কার নয়। রাখাইন এখন আরাকান আর্মির দখলে। মায়ানমার সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রয়েছে আরাকান আর্মির বিরোধ। নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ হচ্ছে। ফলে প্রত্যাবাসন আলোর মুখ দেখবে কবে বলা যাচ্ছে না।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলছেন, আমরা নিরাপত্তা চাই, মর্যাদাসম্পন্ন প্রত্যাবাসন চাই। এখন রাখাইন আরাকান আর্মির দখলে, সেখানে কীভাবে নিরাপত্তা পাব? বিষয়টি আসলেই চিন্তার রেখা টেনে দেয়। তাই সরকারের এ উদ্যোগ সফল করতে হলে মায়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘকে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। রোহিঙ্গাবিষয়ক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসনের টেকসই সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হোক, সেটাই প্রত্যাশা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।