দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে একটি নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামী ব্যাংক। একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় এসব ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিস্তারিত সময়সূচি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। প্রস্তাবিত গেজেট ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে এবং তা শিগগিরই প্রকাশিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকদের আস্থা পুনঃস্থাপন করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একীভূত ব্যাংকটির নাম প্রস্তাব হিসেবে রাখা হয়েছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড’ অথবা ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড’। একীভূত ব্যাংকে যুক্ত হচ্ছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।
অমানতের ফেরতের নিয়ম ও সময়সীমা:
-
তাৎক্ষণিক ফেরত: তিন মাসের কম মেয়াদি চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের প্রথম ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত তাৎক্ষণিক ফেরত দেওয়া হবে।
-
বাকি অর্থ ফেরত:
-
বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে প্রতি কিস্তিতে ১ লাখ টাকা করে ৬ মাস থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে।
-
অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা হবে ২৪ মাস পর।
-
-
মেয়াদি আমানত:
-
তিন মাসের আমানত ৩ বার নবায়ন হবে।
-
ছয় মাস ও এক বছরের আমানত ২ বার নবায়ন শেষে ফেরতযোগ্য।
-
২ থেকে ৪ বছরের আমানত ধাপে ধাপে ১ বছর বাড়িয়ে পরিশোধযোগ্য হবে।
-
৫ বছর বা তার বেশি মেয়াদি আমানত পূর্ণ মেয়াদ শেষে ফেরত দেওয়া হবে।
-
-
বিশেষ ছাড়: ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি ও ক্যান্সার রোগীরা এই সময়সূচির বাইরে থেকে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবেন।
-
বিনিয়োগ সুযোগ: আমানতকারীরা তাদের মোট আমানতের ৩০% পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ হিসেবে নিতে পারবেন।
প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও শেয়ার ইস্যু:
সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকগুলো তাদের নিট দায়ের বিপরীতে অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার পাবে। এসব শেয়ারে প্রচলিত ব্যাংক মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তবে তাদের শেয়ার অন্তত ৫ বছর ধরে রাখতে হবে। এর পর তা মেয়াদি আমানতে রূপান্তরিত হবে।
তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, প্রভিডেন্ড ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে।
কর্মীদের চাকরি ও পরিচালনা পর্ষদ:
একীভূত ব্যাংকে পাঁচ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের চাকরি স্থানান্তরিত হবে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ নেই, তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে চাকরি ছাড়লে প্রচলিত নিয়মে সব সুবিধা পাবেন। তবে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি হারাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
নতুন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন ৯ জন পরিচালক—এর মধ্যে ৫ জন হবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং ৪ জন প্রধান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে থেকে মনোনীত হবেন। তাদের মেয়াদ হবে এক বছর।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
প্রাথমিকভাবে নতুন ব্যাংকটির মালিকানায় থাকবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। তবে আগামী তিন বছরের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদার সংযুক্ত করা হবে এবং পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাংকটি সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

