বরগুনা/পটুয়াখালী প্রতিনিধি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী পায়রা তার নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষি ও মৎস্যজীবীর জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বর্তমানে নদীটির অববাহিকায় দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদীর পানি ক্রমেই দূষিত হচ্ছে, পাশাপাশি নদী ভরাট ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে জলবায়ু ও পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষি ও ঘরে পানি সরবরাহ করা হলেও, প্রায়শই এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় না। মৎস্যজীবী আব্দুল হাই জানান, “পায়রা নদী আমাদের জীবিকা, মাছ আহরণের মূল উৎস। কিন্তু পানি দূষণ এবং খাল ভরাটের কারণে মাছের উৎপাদন কমে গেছে। বছরের বন্যা এবং খরা আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে প্রভাবিত করছে।”
পায়রা নদী পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন খাল ও ছোট নদীর পানি সংগ্রহ করে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়। নদীটি নৌপরিবহন ও স্থানীয় যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, স্থানীয় প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় নদীর অবস্থা ক্রমেই অবনতি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “পায়রা নদীর সংরক্ষণ না করলে শুধু পরিবেশ নয়, বরং নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রাও প্রভাবিত হবে। নদীর পানি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি।”
স্থানীয় সরকার ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলো নদী সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, তবে তা যথেষ্ট নয়। নদীটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা না হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন হতে পারে।


