ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের লড়াই ফিনালিসিমা ম্যাচ ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন জাতীয় ফুটবল দল এবং কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। দুই দলই চায় ম্যাচটি নিজেদের মাঠে আয়োজন করতে। তবে শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের বিষয়েই আলোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণে মহাদেশীয় দুই চ্যাম্পিয়নের এই ম্যাচটি কয়েক দফা পিছিয়েছে। ফলে দুই প্রজন্মের তারকা লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল–কে মুখোমুখি দেখার অপেক্ষাও বাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের।
শুরুতে ম্যাচটি কাতারের দোহায় আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের কারণে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কাতার থেকে ম্যাচ সরে যাওয়ার পর বিকল্প হিসেবে মাদ্রিদের বিখ্যাত স্টেডিয়াম সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম–এর নাম আলোচনায় আসে। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে, যাতে আর্জেন্টিনাকে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে না হয়।
এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা–ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইতালির গণমাধ্যম লা গ্যাজেটা দেলো স্পোর্ত জানিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য দুটি ভেন্যু নিয়ে আলোচনা চলছে, ইতালির মিলান অথবা পর্তুগালের লিসবন।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনকে লজিস্টিক সুবিধার কারণে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালও সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অন্যদিকে ইতালির মিলানে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম সান সিরো স্টেডিয়ামের ঐতিহ্য ও আকর্ষণও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
আগামী ২৭ মার্চ দোহার লুসাইল স্টেডিয়ামে ফিনালিসিমা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার পর কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের জন্য সব আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট স্থগিত করেছে। ফলে ফিনালিসিমাও অনিশ্চয়তায় পড়ে।
স্পেন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, বিষয়টির সঙ্গে অনেক আয়োজন জড়িত রয়েছে। একটি কোম্পানির মাধ্যমে কয়েকটি ম্যাচের প্যাকেজ চুক্তি হয়েছে, যার সবগুলোই দোহায় আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
তার মধ্যে রয়েছে স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা, মিশর বনাম স্পেন, সৌদি আরব বনাম সার্বিয়া এবং আর্জেন্টিনা বনাম কাতারের ম্যাচ।
উয়েফা জানিয়েছে, স্থানীয় আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ম্যাচ সফলভাবে আয়োজনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দোহাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে ম্যাচটি স্পেন বা ইউরোপের অন্য কোনো শহরে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

