ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ডাকাতি ও অজ্ঞান করার মতো একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। রাতের অন্ধকারে চোরচক্র এখন বিভিন্ন বাড়ি, দোকানপাট, এমনকি মসজিদ পর্যন্ত হাত দিচ্ছে। এতে করে এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ এলিয়াস খান জানান,
> “আগে এমন ভয়াবহ অবস্থা কখনো দেখিনি। এখন মনে হয় রাত মানেই ভয়। পুলিশ যদি নিয়মিত টহল দিতো, তাহলে হয়তো এমন অবস্থা হতো না।”
সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় জানা গেছে, চোরচক্র পানির ট্যাংকিতে অজ্ঞান করার ট্যাবলেট বা রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে ফেলে। এরপর তারা ঘরে ঢুকে চুরি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।
আরও ভয়াবহ বিষয় হলো—কিছু ঘটনায় পরিবারের মহিলাদের অশোভন কাজে জড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে, যা পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
একটি মসজিদ থেকেও মাইকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আরো উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ধর্মীয় নেতা মাওলানা শারফুল ইসলাম বলেন,
> “এটা শুধু চুরি নয়, সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ও। আমাদের সন্তানরা আর নিরাপদ নয়। প্রশাসনকে এখনই কঠোর হতে হবে।”
সচেতন নাগরিক ও জনপ্রতিনিধিরা ভালুকা উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—
> “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হোক। রাতের টহল জোরদার করা, সন্দেহভাজন অপরাধীদের নজরদারিতে আনা, এবং স্থানীয় চোরচক্র ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা এখন সময়ের দাবি।”
ভালুকা উপজেলায় এসব ঘটনার পর থেকে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানুষ এখন চায় নিরাপত্তা, আশ্বস্তি এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ।

