যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অংশ নিতে পারবেন না এমন সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা ওয়াডা এই পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে। যদি এটি কার্যকর হয়, তবে ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অলিম্পিক ইভেন্টে অংশ গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে।
ওয়াডার নতুন নিয়মের প্রস্তাবের উদ্দেশ্য প্রতিযোগিতামূলক খেলাকে ডোপিং ও কৃত্রিম শক্তিবর্ধক উপাদানমুক্ত রাখা। একই নিয়ম প্রয়োগ হলে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়াডার বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালে নিষিদ্ধ ড্রাগ পরীক্ষায় পজিটিভ থাকা ২৩ চীনা সাঁতারুকে শাস্তি না দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগ ওঠে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার কারণ হয়। জো বাইডেন প্রশাসন ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ওয়াডার বার্ষিক সদস্যপদ ফি প্রদান স্থগিত করে। ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি আইনের মাধ্যমে ওয়াডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ প্রদান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেন।
ওয়াডা জানিয়েছে, যারা সদস্যপদ ফি পরিশোধ করেনি তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো সেই দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ও ওয়াডা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ডোপিং বিরোধী নিয়ম অমান্য করে, তাহলে ২০৩৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিক ইউটা থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
তবে ওয়াডার সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রাহুল গুপ্ত মনে করেন, এটি বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, “কোনো সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক সংস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কোথাও যেতে বাধা দিতে পারবে, এটা হাস্যকর। তারা কি ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করবে?”
ওয়াডার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা হবে, যেখানে কোনো রাষ্ট্রপতি বা উচ্চ সরকারি কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক ইভেন্টে অংশগ্রহণ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

