আট দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে তারা বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক থেকে সরে যান।
ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগসহ আট দফা দাবিতে সোমবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
শিক্ষার্থী সালমান মাহমুদ ও বরকত উল্লাহ জানান, নয় মাস আগে একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গত সপ্তাহ থেকে তারা নতুন করে আন্দোলন শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ভবন ও অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, পুলিশের আশ্বাসে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে আবারও বরিশাল–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।
সড়ক অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের দুই প্রান্তে বিপুল সংখ্যক যানবাহন আটকা পড়ে। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়।
এদিকে বারবার মহাসড়ক অবরোধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যানবাহন চালকরা। তাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের অবরোধের কারণে দীর্ঘপথের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।
রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ কিশোর কুমার মজুমদার বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। তবে এসব দাবি বাস্তবায়নের বিষয়টি ইনস্টিটিউট প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক সনজিত চন্দ্র নাথ বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল মহাসড়ক সচল রাখা। সে লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

