নোয়াখালীর হাতিয়ায় চলছে খেজুরগাছের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। রস থেকে তৈরি নলেন গুড় ও পাটালি হাতিয়া ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয়। এতে মৌসুম শুরুর আগেই গাছিরা বাড়তি ব্যস্ত সময় পার করছেন।গাছিরা এখন দা ধার দেওয়া, পাটের দড়ি তৈরি, ভাঁড় সংগ্রহ এবং রস জ্বালানোর চুলা ঠিক করার কাজ করছেন। গাছ ছোলার পর সাধারণত ১০-১২ দিন পর রস নামতে শুরু করে, তাই এখনই চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি।হাতিয়ার গ্রামাঞ্চলে হাঁটলে জমির আইলজুড়ে সারি সারি খেজুর গাছ দেখা যায়। নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, তমরউদ্দিন, বুড়িরচর, চরকিং ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নের গ্রামে খেজুরগাছের ঘনত্ব বেশি। শীত এলেই এসব এলাকায় রস বিক্রি, গুড় তৈরি ও রস জ্বালানো নিয়ে চলে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য।
কোরালিয়া গ্রামের গাছি সাহাবউদ্দিন, চরকিংয়ের ফিরোজ উদ্দিন ও নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের নামারবাজার গ্রামের হেলাল উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা খেজুর রস সংগ্রহের কাজ করছেন। তাদের মতে, এটি মৌসুমি হলেও লাভজনক পেশা।নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের মদিনা গ্রামের আবদুল হাদী বলেন, তার ২০-৩০টি গাছে পরিচর্যার কাজ চলছে। একেকটি গাছ ছোলা থেকে রস পেতে গাছিকে ১৫০ টাকা দিতে হয়। আর এক ভাঁড় রস বাজারে বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।গাছি আবদুল আলী ও সৌরাভ হোসেন জানান, এক ভাঁড় রস জ্বালালে প্রায় এক কেজির মতো গুড় পাওয়া যায়, যার দাম ২০০-২৫০ টাকা। একই পরিমাণ রস থেকে পাটালিও তৈরি হয়। তবে তারা আক্ষেপ করেন, হাতিয়ায় এখনো প্রচুর খেজুরগাছ থাকলেও দেশের অন্যান্য এলাকায় গাছের সংখ্যা কমে গেছে। আগে যেমন মাঠভরা খেজুরবাগান বা রস জ্বালানোর দৃশ্য দেখা যেত, এখন তা কমে এসেছে। ফলে নলেন গুড় ও পাটালির প্রাপ্যতাও কমে আসছে।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাজেদ সবুজ জানান, শীতের মৌসুমকে ঘিরে গাছিরা ব্যাপকভাবে গাছ পরিচর্যা করছেন এবং রস সংগ্রহে তাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। শীত নামার সঙ্গে সঙ্গে খেজুর রসকে কেন্দ্র করে হাতিয়ার গ্রামীণ জীবন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের শীতকালকে আরও প্রাণবন্ত করে।

