বিজ্ঞাপন Walton Refrigerator Freezer Offer
পত্রিকার পাতা
ঢাকারবিবার , ১লা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সব খবর

গ্রামবাসীর ৩২ লাখ টাকায় খেলার মাঠ, বাবুপুরের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ১, ২০২৬ ৬:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

‘দশে মিলে করি কাজ, হারি-জিতি নাহি লাজ’—প্রবাদটির বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। নিজেদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে গ্রামের শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য খেলার মাঠ তৈরির নজির গড়েছেন তাঁরা। তাঁদের এ উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছে। ইতিমধ্যে এটি দেশের অন্য এলাকার জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হককে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দেলদুয়ার উপজেলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। মাঠ তৈরিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাবুপুরের এ উদ্যোগের জন্য উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে তাঁদের শিগগিরই পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যুথী এবং মাঠ তৈরির উদ্যোগে যুক্ত বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রামের ছেলেমেয়েদের আবার খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগ নেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাইকিং করে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে গ্রামের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

মাঠ তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘এই গ্রামে বাচ্চাদের খেলার কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না। খাসজমিতে ফসল কাটার পর যে ১৫ দিন জমিটি খালি থাকত, সে সময় সবাই সেখানে খেলাধুলায় মেতে উঠত। কিন্তু পরে আবারও সেই একই চিত্র। ফলে ক্রমেই তরুণেরা খেলাধুলার সুযোগ না পেয়ে মাদকাসক্ত ও অন্যান্য অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।’

খোরশেদ আলম বলেন, তরুণদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে ফিরিয়ে আনতে পরে কয়েকজন মিলে উদ্যোগ নেন তাঁরা। আয়োজিত সভায় সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাঁদের উৎসাহিত করে। ২০০, ৪০০ ও ৫০০ টাকা করে একে একে সবাই চাঁদা দিতে থাকেন। ওই সভাতেই তহবিলে জমা হয় প্রায় ৮ লাখ টাকা। এমনকি একজন চা বিক্রেতাও ২০০ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। এভাবে প্রায় দেড় মাসে প্রবাসী ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের সহযোগিতাসহ মোট ৩২ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।

সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ইকবাল হোসেন সুজনের কাছ থেকে ৫৯ শতাংশ জমি কেনা হয়। গত ২৯ অক্টোবর গ্রামের সবাই মিলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জমিটি স্থায়ীভাবে খেলার মাঠ হিসেবে নির্ধারণ করেন।

বিষয়টি নিয়ে বাসসের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যুথী। তিনি জানান, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য স্থায়ী খেলার মাঠের অভাব পূরণে বাবুপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ উদ্যোগ নেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় বাবুপুর মৌজার ১৮১৬ নম্বর দাগের ৫৯ শতাংশ জমি কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে ৩২ লাখ ১৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে খেলার মাঠের জন্য জমিটি এখনো দলিল করে দেওয়া হয়নি। ২৯ অক্টোবর জমিটি খেলার মাঠ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

ইউএনও জানান, সরকারের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাবুপুরে পূর্ণাঙ্গ মাঠ নির্মাণ করতে আরও ১৮০ শতক জমি প্রয়োজন। পাকা রাস্তা থেকে ২৫০ ফুট পূর্ব দিকে অবস্থিত ১৮১৬ নম্বর দাগের জমিটি বর্তমানে ধানসহ তিন ফসলি আবাদি জমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ওই দাগের আশপাশে কোনো সরকারি খাসজমি নেই। সেখানে ‘খ’ তফসিলভুক্ত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি রয়েছে। এসব জমির শ্রেণি নামা ও কান্দা।

তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ সালে বাবুপুর মৌজায় কান্দা শ্রেণির জমির প্রতি শতকের বাজারমূল্য ৬৩ হাজার ২১২ টাকা এবং নামা শ্রেণির জমির মূল্য ৩১ হাজার ৮৭৫ টাকা।

১৮১৬ নম্বর দাগের আশপাশে ১৩০৩ নম্বর দাগে ২২ শতক, ১৮১৭ নম্বর দাগে ৩২ শতক, ১৮১৮ নম্বর দাগে ৩১ শতক, ১৮১৩ নম্বর দাগে ২০ শতক এবং ১৮২১ নম্বর দাগে ৩১ শতক জমি রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮০ শতক জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। ২৩৯ শতক জমি নিয়ে মাঠ তৈরি করতে বাকি ১৮০ শতক কান্দা শ্রেণির জমি অধিগ্রহণে তিন গুণ হিসাবে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮০ টাকা প্রয়োজন।

এ ছাড়া ১৩০২ নম্বর দাগের জমিতে একটি বাড়ি রয়েছে। অবকাঠামো ও গাছপালার মূল্য বাবদ আরও প্রায় ৬০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে মাঠ তৈরিতে প্রয়োজন ৪ কোটি ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টাকা।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পুরো বিষয়টি জানার পর শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এমন মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলার সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি অন্যদেরও এ ধরনের উদ্যোগ অনুসরণের আহ্বান জানান।

বাবুপুরের উদ্যোগের বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘এভাবেও এগিয়ে আসা যায়, বিষয়টি আমাকে সত্যিই অবাক করেছে। খেলার মাঠের জন্য বাবুপুর গ্রামের মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার ও মন্ত্রণালয় সবসময় এমন ইতিবাচক কাজকে উৎসাহ দিতে চায়। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা যদি এই গ্রামবাসীর পাশে থাকতে পারি, তা হবে বিশেষ কিছু। একই সঙ্গে বাবুপুর গ্রাম পুরো দেশের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।