পত্রিকার পাতা
ঢাকাশুক্রবার , ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ঘুরে আসুন খানজাহান আলী (রহ.) মাজারে

Md Abu Bakar Siddique
নভেম্বর ২৯, ২০২৫ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহাসিক ও পবিত্র স্থান হলো বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত ষাটগম্বুজ মসজিদের কাছেই এই মাজার অবস্থিত। ইসলামি স্থাপত্য, ইতিহাস, আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও প্রকৃতির মিলনে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য। এখানে গেলে শুধু একটি স্থাপনা দেখা হয় না- দেখা হয় ইতিহাসের পদচিহ্ন, স্থাপত্যের সৌন্দর্য এবং মানুষের বিশ্বাসের গভীরতা।

খানজাহান আলী (রহ.) কে ছিলেন
হজরত উলুঘ খানজাহান আলী ১৩৬৯ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আকবর খাঁ এবং মায়ের নাম আম্বিয়া বিবি। ধারণা করা হয় যে, তার পূর্বপুরুষরা তুর্কি জাতিভুক্ত ছিলেন। খানজাহান আলির প্রাথমিক শিক্ষা তার বাবার কাছে শুরু হলেও তিনি তার মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন দিল্লির বিখ্যাত অলিয়ে কামিল পীর শাহ নেয়ামত উল্লাহর কাছে। তিনি কোরআন, হাদিস, সুন্নাহ ও ফিকহ শাস্ত্রের ওপর গভীর জ্ঞানার্জন করেন।
এই সুফি দরবেশ, সমাজসংস্কারক ও প্রজাবান্ধব নেতা পঞ্চদশ শতকে তৎকালীন এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি শুধু ধর্মপ্রচারক ছিলেন না- এলাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়নে খাল, বাঁওড়, মসজিদ, রাস্তা, সেতু নির্মাণের মাধ্যমে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন।
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক সব স্থাপনা, বিশেষ করে বহু গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, পানি ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার সঙ্গে তার নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মানুষের প্রতি তার দয়ার মনোভাব, সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তিনি অনন্য মর্যাদা পান।

মাজারের ইতিহাস ও স্থাপত্য
খানজাহান আলী (রহ.) ১৪৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার ইচ্ছানুসারে তার প্রিয় স্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জনগণ ও তার অনুসারীরা সম্মান জানাতে তার কবরের ওপর গম্বুজযুক্ত স্থাপনা নির্মাণ করে, যা আজকের সুপরিচিত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার।
মাজারের স্থাপত্য অত্যন্ত চমৎকার। লাল ইটের দেয়াল, মোটা গম্বুজ, খোদাই করা দরজা ও কালো পাথরের সমাধি একে অন্য যেকোনো স্থাপনার থেকে আলাদা করেছে। সমাধির ওপর রাখা কালো পাথরটি শ্রীলঙ্কা বা চট্টগ্রাম দিক থেকে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মাজার ঘিরে রয়েছে শান্ত পরিবেশ, সবুজ গাছপালা এবং প্রশস্ত প্রাঙ্গণ, যা ভ্রমণকারীদের মনকে স্বস্তি দেয়।

বেড়ানোর জন্য কেমন জায়গা?
খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারে গেলে প্রথমেই চোখে পড়ে শান্ত আধ্যাত্মিক পরিবেশ। লোকজন ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করছে, কেউ দোয়া করছে, কেউ ইতিহাস খুঁজে দেখছে। প্রাঙ্গণের আশপাশে রয়েছে পুকুর ও ঘন সবুজ গাছপালা। মাজারের দক্ষিণ পাশে বিখ্যাত থাইলা দিঘি, যার পানি নাকি কখনো শুকায় না- এ নিয়ে নানা কিংবদন্তিও প্রচলিত। মাজার এলাকাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ। স্থানীয়দের আন্তরিকতা ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। এর আশপাশে চায়ের দোকান, স্মারকসামগ্রী বিক্রির ছোট দোকানও দেখা যায়।

অবস্থান
মাজারটি বাগেরহাট সদর উপজেলায়, শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের কাছেই হওয়ায় যাতায়াত অত্যন্ত সহজ।

কীভাবে যেতে হবে?
ঢাকা থেকে বাগেরহাট যেতে সরাসরি বাস পাওয়া যায়- শ্যামলী, হানিফ, সুন্দরবনসহ বেশ কয়েকটি পরিবহন নিয়মিত চলাচল করে। সময় লাগে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা। বাগেরহাট শহরে পৌঁছে অটো, ইজিবাইক বা ভাড়ার রিকশায় খুব সহজেই মাজারে যাওয়া যায়। খুলনা থেকেও প্রতিদিন অসংখ্য বাস বাগেরহাটে যায়, সময় লাগে মাত্র ৩০-৪০ মিনিট।

ভ্রমণ করলে কেমন লাগবে?
মাজারে গেলে আপনি ইতিহাস ও ধর্মীয় পরিবেশের মিশ্র অভিজ্ঞতা পাবেন। যেমন-
◉ স্থাপত্যের সূক্ষ্ম কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হতে হয়।
◉ মাজারের ভেতরে নীরবতা ও পবিত্রতার অনুভূতি মনে প্রশান্তি আনে।
◉ আশপাশের পুরোনো গাছপালা, দিঘির পানি ও নির্মল বাতাস মনকে সতেজ করে।
◉ স্থানীয় মানুষের মুখে খানজাহান আলী (রহ.) সম্পর্কে নানা গল্প শুনে অতীত যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
◉ এখানে গেলে আপনি একই সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক স্থান, ধর্মীয় পীঠস্থান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন- যা বিরল।

কখন গেলে ভালো হবে?
শীতকাল অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টিতে খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার ঘুরে দেখার সবচেয়ে ভালো সময়। কারণ-
◉ তখন বাগেরহাটের আবহাওয়া খুব আরামদায়ক
◉ থাইলা দিঘির পরিবেশও মনোরম থাকে
◉ পর্যটকদের ভিড় থাকলেও তা বিরক্তিকর হয় না
◉ বর্ষাকালে যাওয়া গেলেও পানি ও কাদা থাকার কারণে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।

কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেন
মাজার ভ্রমণে সাধারণ কিছু আচরণ ও সতর্কতা মানলে ভ্রমণ আরামদায়ক ও সম্মানজনক হয়-
◉ মাজারে প্রবেশের সময় সম্মানজনক আচরণ করা
◉ জুতা-মোজা খুলে প্রবেশ করা
◉ অযথা উচ্চৈঃস্বরে কথা না বলা
◉ কোনো স্থাপনা স্পর্শ না করা বা খোদাই নষ্ট না করা
◉ ছবি তোলার সময় স্থানীয় নির্দেশনা মানা
◉ ভিক্ষুক বা অসহায় মানুষদের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা
◉ দিঘির ধারে বসা বা খেলা না করা
◉ গরমে গেলে পানি ও ছাতা সঙ্গে রাখা
◉ বাচ্চারা থাকলে তাদের নজরে রাখা

আরও কী দেখতে পারেন আশপাশে?
মাজারের কাছেই রয়েছে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান। যেমন-
◉ ষাটগম্বুজ মসজিদ
◉ সিঙ্গাইর মসজিদ
◉ নয়গম্বুজ মসজিদ
◉ চুনাখোলা মসজিদ
◉ সুন্দরবনের মংলা অংশ (গাড়িতে ১-১.৫ ঘণ্টা)
তাই একদিনে মাজারসহ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ উপভোগ করা যায়।
খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়- এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক মহামূল্যবান নিদর্শন। এখানে গেলে মন শান্ত হয়, ইতিহাসের সঙ্গে এক ধরনের আধ্যাত্মিক সংযোগ তৈরি হয়। বাগেরহাট ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে এই স্থানটিকে অবশ্যই তালিকায় রাখুন। মনে রাখবেন- একটি ঐতিহাসিক স্থাপনার সৌন্দর্য শুধু দেখায় নয়, তার গল্প জানায়। আর খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সেই গল্পকে আপন করে নেওয়ার এক দুর্লভ সুযোগ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।