পত্রিকার পাতা
ঢাকাসোমবার , ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

চাঁদপুরে আলু চাষে লক্ষ্য কম, আশাবাদ

Md Abu Bakar Siddique
ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চাঁদপুরের দুটি সেচ প্রকল্পসহ জেলার আট উপজেলায় আলুর বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুত জমি প্রস্তুত করতে পেরেছেন তারা। কৃষি বিভাগ এ বছর জেলায় ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কৃষকদের আশা, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলন ভালো হবে। তবে গত বছর আলুর ভালো দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক একই জমিতে এবার ধান আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্প্রতি হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মাঠেই চলছে আলু বপনের কাজ। সকাল থেকেই মাঠে নামছেন কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বছর জেলায় ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছিল। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২০০ হেক্টর। তবে বাস্তবে আবাদ কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু বপন সম্পন্ন হয়েছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলু আবাদ হয় মতলব দক্ষিণ উপজেলায়। দ্বিতীয় অবস্থানে কচুয়া এবং তৃতীয় অবস্থানে সদর উপজেলা। এই তিন উপজেলাতেই প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়।

সদর উপজেলার দনপর্দি গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন ও সুরুজ মিয়া বলেন, ‘গত বছর আলুর ভালো দাম পাইনি। তবে এই সময় আমাদের জমিতে আলু ছাড়া অন্য ফসল কম হয়। তাই বাধ্য হয়েই আলু লাগাতে হচ্ছে।’ তারা জানান, আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর, আশিকাটি, রামপুর, মৈশাদি, বালিয়া ও বাগাদী ইউনিয়নের উঁচু জমিতে শুরু হয়েছে আলু বপন। বাগাদী সোবহানপুর গ্রামের কৃষক শামছুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ বছর আগাম আলু বপন শুরু করেছি। বৃষ্টি বা কুয়াশায় আলুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। আগে উৎপাদন হলে ঝুঁকি কমে।’ মতলব উত্তর উপজেলায় উঁচু জমি, নদীতীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলে আগাম জাতের আলুর বীজ বপন শুরু হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কৃষকদের উচ্চফলন নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বীজ সংগ্রহে পরামর্শ, সুষম সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে মাঠপর্যায়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মেঘনার পশ্চিম পাড়ের বোরচর এলাকার কৃষক আমান উল্লাহ বলেন, ‘এ বছর আমি ১২ একর ২৫ শতাংশ জমিতে আলু আবাদ করেছি।’ তিনি জানান, এ এলাকার মাটি আলু চাষের জন্য উপযোগী। গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছিল। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছেন তারা। চরাঞ্চলের কৃষক আলী আজ্জম, আলমগীর ব্যাপারী ও ওয়াসিম জানান, আগাম জাতের আলু চাষে শ্রম বেশি লাগে। তবে বাজারে আগে বিক্রি করতে পারলে লাভও বেশি হয়। সে কারণেই তারা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে কাজ করছেন। মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘অর্থকরী ফসল হিসেবে আলু চাষ এ এলাকায় অত্যন্ত লাভজনক। অধিকাংশ কৃষক এখন আলু চাষে স্বাবলম্বী।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেচ প্রকল্প এলাকায় উৎপাদন বাড়ানো ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পাশে আছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে এ বছর বাম্পার উৎপাদনের আশা করছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘এ বছর আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার হেক্টর কমানো হয়েছে। কারণ, গত বছর কৃষকরা ভালো দাম পাননি।’ তিনি বলেন, ‘যে ফসলের দাম ভালো পাওয়া যায়, কৃষকের আগ্রহ সেদিকেই থাকে। লোকসান হলে তারা আবাদ কমিয়ে দেয়।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সদরের এক কৃষক গত বছর ১০ হেক্টরে আলু আবাদ করেছিলেন। এ বছর তিনি করেছেন ৫ হেক্টরে। বাকি জমিতে বোরো ধান করবেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।