পত্রিকার পাতা
ঢাকাবুধবার , ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

চার বন্ধুর উদ্যোগে ফিরছে গুড়ের ঐতিহ্য

Md Abu Bakar Siddique
ডিসেম্বর ২, ২০২৫ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আখের গুড় তৈরির প্রায় ১০০ বছরের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে এগিয়ে এসেছেন সোনারগাঁয়ের চার বন্ধু- আব্দুল মান্নান, আনোয়ার, আতাউর ও শাহীন। পাঁচ বছর ধরে তারা পূর্বপুরুষের আদি পেশাকে নতুন করে দাঁড় করাতে কাজ করছেন। এখন তারা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় নিজস্ব কারখানায় স্বাস্থ্যসম্মত গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চার বন্ধু মিলে এলাকার ৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করছেন। সেই আখ থেকেই ভেজালমুক্ত গুড় তৈরি করছেন। পাশাপাশি আশপাশের গ্রাম থেকেও আখ সংগ্রহ করেন তারা। স্থানীয় কৃষকদের উৎসাহ দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উন্নতমানের বীজ এনে চাষিদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।একসময় এ অঞ্চলে আখচাষ ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ কারিগরের অভাবে লোকসান গুনে কৃষকরা এ চাষ বন্ধ করতে বাধ্য হন। এর সঙ্গে শিল্পকারখানা সম্প্রসারণে কৃষিজমি কমে যাওয়ায় এবং বাজারে ভেজাল গুড়ের দাপটে ঐতিহ্যটি প্রায় হারিয়েই যায়। তবুও চার বন্ধুর উদ্যোগে স্থানীয় চাষিরা আবার আশার আলো দেখছেন।হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় লোহাটাং, গেণ্ডারী ও খাকরী জাতের আখের ফলন ভালো হওয়ায় এখানে ব্যাপক চাষ হচ্ছে। এ আখ দিয়েই তৈরি হচ্ছে রসালো ও স্বাস্থ্যসম্মত গুড়। সোনারগাঁয়ে এবার প্রায় ৪৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে।

কারখানায় কেউ জমি থেকে আখ কেটে আনে, কেউ মেশিনে মাড়াই করে। একজন মাড়াই করা আখের ছোবড়া শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আরেকজন বিশাল পাত্রে আখের রস জ্বাল দিয়ে পাকা করেন। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা জ্বাল দেওয়ার পর রস ঘন হয়ে গুড়ে পরিণত হয়। প্রতি কড়াইয়ে প্রায় ৪৫ কেজি গুড় পাওয়া যায়। প্রতিদিন ১৬০ থেকে ২০০ কেজি পর্যন্ত গুড় উৎপাদন হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা।আখ চাষি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমার পূর্বপুরুষরাও এ আখ চাষে জড়িত ছিলেন। আখ চাষ ও গুড় তৈরি আমি আমার বাবার কাছ থেকে শিখেছি। আমরা ৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ১৫ মণ গুড় উৎপাদন করতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইচ্ছাশক্তি থাকলে বাপ-দাদার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সরকার যদি পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, এ এলাকার আখের গুড়ের ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ‘এ বছর সোনারগাঁ উপজেলায় প্রায় ৪৫ হেক্টর জমিতে আখ উৎপাদন হচ্ছে। এ অঞ্চলের মাটি আখচাষের জন্য খুব উপযোগী। হাড়িয়া গ্রামে চারজন চাষি আখ থেকে স্বাস্থ্যসম্মত গুড় উৎপাদন করছেন। চিনি ব্যবহারের চেয়ে আখের গুড় স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী।’ তিনি বলেন, ‘তারা নিজস্ব জমির আখ ছাড়াও বাইরে থেকে আখ সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করছেন। আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।