জয়পুরহাটে শীতের সবজির চারা উৎপাদনে লাভের মুখ দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তারা। এখানকার চারার মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলায়। উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে মানসম্পন্ন চারা উৎপাদন আরও বাড়বে, নতুন নার্সারি সৃষ্টি হবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে।জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সহযোগিতা ইতোমধ্যে দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ধান ও আলু উৎপাদনে পরিচিত জয়পুরহাট সবজি চাষেও পিছিয়ে নেই। এ জেলায় চলতি রবি মৌসুমে ৪ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন নানা প্রজাতির শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক নার্সারি। উদ্যোক্তারা ছোট আকারের এসব নার্সারিতে বাধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, টমেটো, মরিচ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করছেন। প্রজাতি ও মানভেদে এসব চারা প্রতি পিস ১ টাকা থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে অধিকাংশ উদ্যোক্তাই এই মৌসুমে ১ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভের আশা করছেন। তাদের হিসাবে জেলায় এ মৌসুমে কোটি টাকার বেশি চারা বিক্রি হবে।
গনকবাড়ি এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা খিতিশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি ১৯৭২ সাল থেকে নার্সারিতে চারার ব্যবসা করছি। বাঁধাকপির চারা ১০০ পিস ১০০ টাকা, ফুলকপি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, মরিচ ৩০০ টাকা এবং পেঁয়াজের চারা ৫০ টাকায় বিক্রি করছি। এতে ভালো লাভ হচ্ছে। বিশেষ করে শীতকালীন চারা বেশি বিক্রি হয়।’ একই এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘আমার নার্সারিতে বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, মরিচ, লাউ, মিষ্টিকুমড়াসহ ১০ ধরনের চারা রয়েছে। প্রতি পিস ১ টাকা থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি করি। জয়পুরহাটের পাশাপাশি অন্যান্য জেলা থেকেও কৃষকরা আসে। বছরের অন্য সময় একটু কম বেচাকেনা হয়, তবে শীতকালে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ মৌসুমে ৩ লাখ টাকার মতো লাভের আশা করছি।’ পারুলিয়া গ্রামের উদ্যোক্তা আবদুল হামিদ বলেন, ‘চারার ব্যবসা অনেক লাভজনক। দূর-দূরান্ত থেকে কৃষকরা আসে। জয়পুরহাটে এখন প্রায় শতাধিক নার্সারি। আমার নার্সারিতে কয়েকজন শ্রমিকও কাজ করে। কৃষি বিভাগ থেকে যদি নিয়মিত পরামর্শ বা সহযোগিতা পাওয়া যেত, নার্সারি আরও বড় করা যেত।’
ক্রেতা কৃষক আবদুর রহিম বলেন, ‘নওগাঁর ধামইরহাট থেকে বেগুন ও বাঁধাকপির চারা কিনতে এসেছি। ৫শ চারা নিলাম। এখানকার চারার মান খুব ভালো। ফলনও ভালো হয়।’ হেলকুন্ডা গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে ২শ পিস টমেটো চারা নিয়েছিলাম। আজ আবার ১০০ পিস কাঁচা মরিচের চারা নিলাম। প্রতি পিস ১ টাকা করে পেয়েছি।’ পারুলিয়া গ্রামের কৃষক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় অনেক নার্সারি হয়েছে। ভালো মানের চারা পাওয়া যায়। আমিও এখান থেকে চারা নিয়ে চাষ করি। এবার ২০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ আর ১৫ শতাংশ জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ সম্পন্ন হয়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় উদ্যোক্তারা নার্সারিতে চারা উৎপাদন করে ভালো আয় করছেন। প্রতি পিস ৫ টাকা পর্যন্ত চারা বিক্রি হচ্ছে। শীতকালেই অনেক কৃষক লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন। আমরা চারা উৎপাদনের সঠিক পদ্ধতি, রোগবালাই বিশেষ করে গোড়া পচা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।’

