পত্রিকার পাতা
ঢাকাবুধবার , ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

দিনাজপুরে আগাম আলু চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষক

Md Abu Bakar Siddique
অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দিনাজপুরের মাঠজুড়ে এখন আগাম আলু বপনে ব্যস্ততা। কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউ বীজ বপন করছেন, কেউ আবার সার দিচ্ছেন। কৃষকরা বলছেন, শ্রমিকের মজুরি ও সারের সংকট থাকলেও লাভের আশায় আলু চাষে ঝুঁকছেন তারা। কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাব, এ মৌসুমে জেলায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষ হবে। নতুন আলু বাজারে উঠলেই মিলবে ভালো দাম, এমন আশাতেই স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চাষিরা সাধারণত ২৫ নভেম্বরের আগেই আগাম আলুর বীজ বপন করেন। মাত্র ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই এসব আলু বাজারে তোলা যায়। সদরের ঘুঘুডাঙ্গা এলাকার কৃষক মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘এ বছর আলুর বীজের দাম কিছুটা কম, তবে নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদামতো সার আনতে কষ্ট করতে হয়। শ্রমিকের দামও বেড়েছে। তার পরও আগাম জাতের আলু বপন করছি। কারণ নতুন আলু বাজারে ভালো দামে বিক্রি করা যায়।’

সদরের সুইহারী মাজাডাঙ্গা এলাকার চাষি হারেস আলী জানান, ‘দুই একর জমিতে আগাম আলু চাষ করছি। প্রতি বিঘায় শ্রমিকদের ৩ হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে, হালচাষে খরচ হচ্ছে দেড় হাজার টাকা। নিজের কিছু বীজ ছিল, বাকিটা বাজার থেকে কিনেছি। তবে সারসংকট অনেক।’

কাহারোলের কান্তজি গ্রামের কৃষক মহেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর আগাম আলু চাষে লাভ পাই। তাই এ বছরও দুই বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। ৫০ শতক জমিতে খরচ হয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা, কিন্তু লাভ হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাই কষ্ট হলেও চাষ করছি।’

দশ মাইল সদরপুর গ্রামের চাষি মকবুল হোসেন অভিযোগ করেন, ‘রাসায়নিক সারের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জিপসাম, পটাশ ও ফসফেট সার চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া স্লিপ নিয়ে ডিলারের কাছে গেলেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার মেলে না।’

চিরিরবন্দরের আউলিয়াপুরের কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় কম স্লিপ দেওয়া হচ্ছে। ফলে ডিলারের কাছ থেকে নির্ধারিত পরিমাণ সার তুলতে পারছি না। এতে আলু চাষের কাজে সমস্যা হচ্ছে।’

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার মধ্যে সদর, বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর, খানসামা ও কাহারোলে বেশি করে আগাম জাতের আলু চাষ হয়। নভেম্বরের প্রথম দিক থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত যে আলু বপন করা হয়, সেটিকেই আগাম জাত হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকায় আলুর বৃদ্ধি ভালো হয় এবং উৎপাদনও বেশি হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যথেষ্ট রাসায়নিক সারের সরবরাহ রয়েছে। তবে কিছু চাষি অতিরিক্ত ফলনের আশায় মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহার করছেন, যা ক্ষতিকর। আমরা তাদের জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করছি।’

কৃষিবিদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘আগাম আলু সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। তখন নতুন আলুর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে, ফলে কৃষকরা লাভবান হন। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারিভাবে প্রণোদনা ও বীজ সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।