দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পুটিয়া গ্রামজুড়ে এখন আলু বপনের ব্যস্ত সময়। আমন ধান কাটার পরই বিশাল মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে এস্টারিক্স ও সান্তানা জাতের বিএডিসি বীজ আলু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠজুড়ে নারী-পুরুষ কৃষকদের হাঁটাচলা, সার দেওয়া, কোদাল চালানো আর বীজ বসানোর কাজে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের মতো পরিবেশ। ক্লান্তি থাকলেও কৃষকদের চোখে-মুখে নতুন মৌসুমের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার আলো স্পষ্ট।
স্থানীয়দের মতে, বীজ আলু উৎপাদনকে কেন্দ্র করে পুটিয়া গ্রামে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলছে। পুরো এলাকায় কৃষিশ্রমের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি গ্রামজুড়ে বিরাট কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পুটিয়ার চাষি মতিউর রহমান জানান, তিনি শতাধিক নারী-পুরুষ নিয়ে বপন কাজ পরিচালনা করছেন। তার ভাষায়, ‘১৫ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই বপন শেষ করতে হবে। এরপর ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে আলু তোলা যাবে। পরে একই জমিতে ইরি ধান লাগাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক একর জমিতে আলু চাষে খরচ হয় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতি একর থেকে ৩৮ থেকে ৪২ টন আলু উৎপাদন সম্ভব।’
গত বছরের ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষতি হলেও কৃষিকাজ ছাড়া উপায় নেই। নতুন স্বপ্ন নিয়ে আবার মাঠে নেমেছি।’
বপন কাজে ব্যস্ত আব্দুল কুদ্দুস জানান, ‘বীজ আলুর চাহিদা বেশি। ঝুঁকি থাকলেও আমরা আশাবাদী। বাজার ভালো থাকলে লাভ নিশ্চিত।’ মাঠের আরেক শ্রমিক রুবেল হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছি। মজুরি যেমন পাচ্ছি, অভিজ্ঞতাও বাড়ছে। আলুর সময় এমন কাজের চাপ অন্য কোনো ফসলের সময় থাকে না।’
চাষি আরিফুল ইসলাম জানান, ‘ভালো ফলনের জন্য সার, সেচ এবং নিয়মিত পরিচর্যা খুব জরুরি। আমরা সবাই চেষ্টা করছি যাতে বীজ আলুর মান ভালো থাকে।’
দিনাজপুর আলু সংরক্ষণাগারের উপসহকারী পরিচালক হেমায়েতুল্লাহ আবু জাফর বলেন, ‘এ বছর দিনাজপুরে ৪৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ শত হেক্টর জমিতে বিএডিসির সান্তানা ও অন্যান্য জাতের বীজ আলু উৎপাদনের জন্য কৃষকদের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। উৎপাদিত বীজ পরে বিএডিসি সংগ্রহ করবে।’
তিনি আরও জানান, ‘বিএডিসির বীজ সারা দেশে প্রশংসিত। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার উৎপাদন আরও বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘দিনাজপুর দেশের অন্যতম আলু উৎপাদন অঞ্চল। উচ্চমানের বীজ আলু উৎপাদনে এখানকার কৃষকরা প্রতি বছরই ব্যাপক আগ্রহ দেখান।’
পুটিয়া গ্রামের মাঠে এখন যে কর্মচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে, তা যেন গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন দিশা। কৃষকদের আশা- এ মৌসুম ভালো গেলে শ্রম, পুঁজি এবং পরিশ্রমের ফল মিলবে বহু গুণ। আর সে আশাতেই পুরো গ্রামে এখন আলু বপনের উৎসবমুখর দৃশ্য।

