পত্রিকার পাতা
ঢাকাসোমবার , ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

দিনাজপুরে সবজি দামে ক্রেতাদের স্বস্তি

Md Abu Bakar Siddique
ডিসেম্বর ১১, ২০২৫ ৩:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দিনাজপুরে শীতের সবজির সরবরাহ বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এতে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। এতে ক্রেতারা স্বস্তিতে বাজার করতে পারছেন। বিক্রেতারাও জানাচ্ছেন, দাম কমলেও ক্রেতার ভিড় বাড়ায় বিক্রি আগের চেয়ে বেশি হচ্ছে।বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের বাহাদুর বাজার, চক বাজার ও রেল বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। প্রতিটি বাজারেই সাজানো আছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, মুলা, নতুন আলু, শিম, টমেটো, বেগুন, লাউ, পেঁপে, ঢ্যাঁড়শ, বরবটি, পটোল, কাঁচা মরিচসহ নানা মৌসুমি সবজি। সরবরাহ পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি। বিশেষ করে পাইকারি বাজারে প্রতিদিন নতুন সবজির আগমন বাড়ছে। এতে বাজারের চাপ আরও কমে এসেছে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনাজপুরের কৃষকরা প্রতিবছর শীত মৌসুমে বিপুল পরিমাণ সবজি উৎপাদন করেন। স্থানীয় উৎপাদন বেশি হওয়ায় সরাসরি এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই তাই দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, কৃষক পর্যায়ে উৎপাদন আরেকটু বাড়লে শীতজুড়েই বাজার স্থিতিশীল থাকবে। সব মিলিয়ে এখন দিনাজপুরের সবজির বাজার জমজমাট। দাম কম, সরবরাহ বেশি, ক্রেতার চাহিদাও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ধারাবাহিকতা থাকলে পুরো শীত মৌসুমজুড়েই সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী দামে নানান সবজি কিনতে পারবেন। এদিকে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্যও এটি বড় স্বস্তির খবর।

বাজারদর অনুযায়ী, ফুলকপি ৩০–৩৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০–৩৫ টাকা, গাজর ৫০–৬০ টাকা, সিম ৫০–৬০ টাকা, বেগুন ৪০–৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০–৮০ টাকা, টমেটো ৬০–৭০ টাকা, শসা ৩০–৪০ টাকা, পটল ৪০–৪২ টাকা, নতুন আলু ৩০–৪০ টাকা এবং পুরোনো আলু ১৫–১৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাতাসহ পেঁয়াজ মিলছে ৩০–৪০ টাকায়। বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু সাঈদ বলেন, ‘এবার সরবরাহ এত বেশি যে প্রতিদিনই নতুন সবজি আসে। চাহিদা খুব একটা না থাকায় দাম স্বাভাবিকভাবেই কমছে। এতে ক্রেতারা ভালো দামে সবজি পাচ্ছেন, আমরাও সন্তুষ্ট।’

আরেক বিক্রেতা রাব্বিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহেও ফুলকপি–বাঁধাকপি ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন ৩০–৩৫ টাকায় নেমে এসেছে। সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কমবেই। তবে বিক্রি এখন অনেক ভালো।’

সবজি বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, ‘শীত এলেই সবজির প্রাচুর্য দেখা দেয়। এবারও বাজারে সবকিছু মিলছে প্রচুর দামে। দাম কম থাকায় মানুষ বেশি করে সবজি কিনছে। এতে আমাদেরও লাভ হচ্ছে।’

বাজার করতে আসা ক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শীতকালে সবজির দাম সাধারণত কম থাকে। কিন্তু এবারের মতো এত কম দাম আগে দেখিনি। সত্যিই স্বস্তি পাচ্ছি।’

আরেক ক্রেতা মোরসালিন হক জানান, ‘সব ধরনের সবজি সস্তা। ফুলকপি–বাঁধাকপির দাম এতটাই কম যে পরিবারের জন্য বেশি করে কিনে রাখছি।’

গৃহিণী হাসিনা বেগম বলেন, ‘মাসখানেক আগেও বাজার করতে গেলে দুশ্চিন্তা ছিল। এখন দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তি লাগছে। শীতের সবজির দাম যদি আরও কমে, তাহলে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য সুবিধা আরও বাড়বে।’

বাহাদুর বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন বলেন, দিনাজপুর সদর, বিরল, বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দরসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন সকালে প্রচুর সবজি পাইকারি বাজারে আসে।তিনি বলেন, ‘সরবরাহ বাড়ায় ধীরে ধীরে সব ধরনের শীতকালীন সবজির দাম কমে আসছে। এতে ক্রেতারা সহনশীল দামে সবজি কিনতে পারছেন। বিক্রেতারাও তাদের উৎপাদিত সবজি সহজেই বিক্রি করতে পারছেন। বাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাবেচা করছেন।বাজার পরিস্থিতি নিয়ে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রঞ্জু বলেন, ‘শীতের সবজির সরবরাহ আরও কিছুদিন বাড়তে পারে বলে বিক্রেতারা জানাচ্ছেন। সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলে দামও এমনই সাশ্রয়ী থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শীত মৌসুম সবজি–বাজারকে স্বাচ্ছন্দ্য রাখে। এ বছর দাম দ্রুতই নিচে নেমেছে। এটি ক্রেতাদের জন্য অবশ্যই স্বস্তির খবর।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।