বর্তমান সরকারের স্বাবলম্বী ও সুদৃঢ় পররাষ্ট্রনীতির কারণে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, গত ১৫ বছরের দুর্বল কূটনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে দেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে।
আজ সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. ফজলে হুদার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সফল ও সুদূরপ্রসারী পররাষ্ট্রনীতির ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব অবস্থান শক্ত করেছে। দেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে ও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জন করেছে। এই দিকনির্দেশনামূলক নেতৃত্বের ভিত্তিতেই দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণ নিয়ে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন শ্রমবাজার খোঁজা, শ্রমিক রপ্তানি বৃদ্ধি কিংবা সর্বাধিক বাণিজ্য বিনিময়ে সফল মিশনগুলোর জন্য বিশেষ কোনো ‘রিওয়ার্ড ব্যবস্থা’ বা পুরস্কার পদ্ধতি চালু করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের দুঃশাসনের সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন কার্যত বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সে সময় দূতাবাসগুলোর সামগ্রিক কার্যক্রম, প্রবাসীদের সেবা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়ে পূর্ববর্তী সরকারের কোনো আগ্রহ বা কার্যকর তদারকি দৃশ্যমান ছিল না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই স্থবির ও অকার্যকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।
কূটনৈতিক মিশনগুলোর জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি দূতাবাসের কাজের মান মূল্যায়নে সরকার ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ বা কেপিআই ব্যবস্থা প্রস্তুত করছে। এই কেপিআই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে প্রতিটি দূতাবাসের কাজের মান ও গ্রেডিং নির্ধারণ করা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় প্রতিটি দূতাবাসের সাফল্য, ব্যর্থতা ও কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরা হবে। কারণ এসব তথ্য জানার পূর্ণ অধিকার সংসদ সদস্যদের রয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের আয়তন, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক কূটনীতির গুরুত্বের তুলনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান বাজেট বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


