প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের কথা উঠলেই সবার আগে যে দুটি খাবারের নাম আসে, তা হলো ডিম ও দুধ। সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সহজে যুক্ত করা যায় বলে এই দুটি খাবার দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।
পেশি গঠন, শরীরের শক্তি বৃদ্ধি কিংবা সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—প্রোটিনের জন্য ডিম ভালো, নাকি দুধ?
কোনটিতে প্রোটিন বেশি?
পুষ্টিবিদদের মতে, একটি বড় ডিমে সাধারণত ৬ থেকে ৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। অন্যদিকে ২৫০ মিলিলিটার দুধে পাওয়া যায় প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন।
সে হিসেবে প্রোটিনের পরিমাণে খুব বেশি পার্থক্য নেই। ডিম ও দুধ—দুটিই ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’ হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড এতে বিদ্যমান থাকে।
ডিম কেন জনপ্রিয়?
ডিমকে অনেকেই ‘প্রাকৃতিক সুপারফুড’ বলে থাকেন। কারণ এতে শুধু প্রোটিনই নয়, রয়েছে কোলিন, ভিটামিন বি-১২, সেলেনিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
ডিমের প্রোটিন সহজে হজম হয় এবং শরীর দ্রুত তা ব্যবহার করতে পারে। পাশাপাশি এটি সহজে রান্না করা যায় এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত স্থান পায়।
দুধের বিশেষ সুবিধা কী?
দুধের প্রোটিনের মধ্যে প্রধানত দুটি উপাদান থাকে—হোয়ে (Whey) ও কেসিন (Casein)।
হোয়ে দ্রুত হজম হয়ে শরীরে শোষিত হয়, আর কেসিন ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে দুধ দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে প্রোটিন সরবরাহ করতে পারে।
এ ছাড়া দুধে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি, যা হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুবিধাও রয়েছে
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ডিম ও দুধের প্রোটিন শুধু পেশি গঠনে নয়, শরীরের কোষকে সুরক্ষা দিতেও সহায়তা করতে পারে।
হজমের সময় এসব প্রোটিন থেকে উৎপন্ন কিছু উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করতে সাহায্য করে।
তাহলে কোনটি খাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম ও দুধের মধ্যে একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং দুটি খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিনের পাশাপাশি আরও নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান পায়।
সকালের নাশতায় ডিম যেমন পেট ভরা অনুভূতি দেয়, তেমনি দুধ খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম যোগ করতে সাহায্য করে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ডিম ও দুধ—দুটিই নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।

