পত্রিকার পাতা
ঢাকাসোমবার , ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

মানিকগঞ্জে ধানের বাম্পার ফলন, আমনের বাণিজ্য ৩৩০ কোটি টাকা

Md Abu Bakar Siddique
ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় চলছে আমন ধান কাটা-মাড়াই। বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি। রোপা ও বোনা আমনের আবাদ বেড়েছে, উৎপাদনও ভালো। খড় বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে। যদিও উৎপাদন ব্যয় ৪০ শতাংশ বেড়েছে, মেশিনে কাটা ধান খরচ কমাচ্ছে। সব মিলিয়ে কৃষকরা এবার লাভবান। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এবার আমনকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে।জেলায় রোপা ও বোনা— দুই ধরনের আমনের আবাদই বেড়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৩ হাজার ২৩৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এটি ১ হাজার ১৭০ হেক্টর বেশি। পাশাপাশি ১৮ হাজার ৫৬১ হেক্টরে হয়েছে বোনা আমন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি বিঘায় ১৭ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত ধান পেয়েছেন কৃষকরা।

এবারের মৌসুমে আবহাওয়া ছিল অনুকূল। প্রয়োজনমতো সেচ হয়েছে। রোগ-পোকার আক্রমণও তুলনামূলক কম ছিল। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘায় ১৭-১৮ মণ ধান তুলতে পেরে কৃষকরা খুশি। শুধু ধান নয়, খড় বিক্রিও এখন কৃষকের আয়ের বড় উৎস। প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায় খড় বিক্রি হচ্ছে। তবে চাষের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপও আছে। সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিক— সব খাতে খরচ বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এখন প্রতি বিঘায় ব্যয় পড়ছে ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবুও আশার বিষয় হচ্ছে, মেশিনে ধান কাটার ফলে বিঘাপ্রতি ২ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এতে কৃষকের স্বস্তি কিছুটা বাড়ছে।

গিলন্ড গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আবহাওয়া পুরো মৌসুম ভালো ছিল। পানি ও রোদ ঠিকমতো পেয়েছি। তাই ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৮ মণ ধান পেয়েছি। দাম আরেকটু বেশি হলে ভালো লাগত। চাষের খরচ বেড়েছে, কিন্তু ফলন বেশি হওয়ায় মনটা শান্ত।’ হাটিপাড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘উৎপাদন ব্যয় গত কয়েক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিক— সবকিছুতেই খরচ বেশি। ধানের দাম সেই হারে বাড়েনি। এখন প্রতি বিঘায় ব্যয় ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে ধান ও খড় বিক্রি করে আমার প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।’

সাটুরিয়া উপজেলার কামতা গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, গত দুই বছরে ঝড়বৃষ্টি মিলিয়ে ক্ষতি হয়েছিল। এবার তিন বিঘায় ৫০ মণ ধান পেয়েছি। খড় বিক্রি করেছি প্রায় ২০ হাজার টাকার। দীর্ঘদিন পর এমন ফলনে মনে হলো আবার দাঁড়িয়ে যেতে পারব।’ একই গ্রামের রমজান আলী বলেন, ‘এবারের ফলন সত্যিই আনন্দ দিয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৭-১৮ মণ ধান পেয়েছি। কিন্তু সার, কীটনাশক আর সেচের খরচ খুব বেশি। খড়ের বাজার ভালো থাকায় খরচ সামাল দিতে পেরেছি। আমরা চাই ধানের দাম সরকার আরেকটু বাড়াক।’

ফুকুরহাটি এলাকার কৃষক ছলিম উদ্দিন বলেন, ‘মেশিন না থাকলে এত কম খরচে ধান কাটা সম্ভব হতো না। পাঁচ বিঘায় প্রায় ৯০ মণ ধান পেয়েছি। দাম আরেকটু বাড়লে পুরো মৌসুমটাই লাভের হয়ে যাবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘মানিকগঞ্জে এবার আমনের উৎপাদন খুবই ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। কৃষকরাও পরিচর্যায় মনোযোগী ছিলেন। ধান ও খড় বিক্রি করে কৃষকরা বাস্তবিক অর্থেই লাভবান হয়েছেন। উৎপাদন খরচ যদি আরেকটু কমানো যায়, হেমন্তের এই সময়টা কৃষকের কাছে সত্যিকারের উৎসবে পরিণত হবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।