মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জর্ডানে দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার জবাবে তারা ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে কুয়েতে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি হামলায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের পর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
সেন্টকমের দাবি, এই ঘটনার জন্য দায়ী ইউনিটগুলোকে লক্ষ্য করে টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী বলে অভিযুক্ত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি
ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, ড্রোন হামলার মাধ্যমে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী—
- ক্যাম্প উদাইরির একটি গোলাবারুদ ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির প্যাট্রিয়ট রাডার ও আকাশ নজরদারি ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়েছে।
তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ
ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্মাণাধীন দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, একাধিক প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে নিরাপত্তা সতর্কতা
জর্ডানে হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় সতর্কসংকেত বাজানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, জর্ডানের বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে আকাবা বন্দরের দিকে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদনকেন্দ্রে হামলার ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে বাহরাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক হামলা প্রতিহত করেছে। দেশটি অভিযোগ করেছে, বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সংকট
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করে।
আইআরজিসির দাবি, প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি জাহাজের মধ্যে দুটি দুর্ঘটনার কারণে থেমে যায় এবং বাকি দুটি ফিরে যায়।
হতাহত ও মানবিক পরিস্থিতি
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি হুমকি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করবে।
এদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন হামলার জবাব হবে ‘চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী’।
উদ্বেগ বাড়ছে উপসাগরীয় অঞ্চলে
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে।
কুয়েতের বাসিন্দা হাসান রায়ান বলেন, অনেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয় মজুত করতে শুরু করেছেন। কারণ, চলমান উত্তেজনায় সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কী–শব্দ:

