পত্রিকার পাতা
ঢাকারবিবার , ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

যুদ্ধে অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি

Sun this Ja ham
মার্চ ১৪, ২০২৬ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক, ফেব্রুয়ারি ২০২৬’ প্রতিবেদনে অর্থনীতির কিছু সূচকে সামান্য স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিললেও রাজস্ব আয়, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ব্যয়ের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব যুক্ত হলে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন জিইডির সদস্য (সচিব)

ড. মনজুর হোসেন বলেন, নতুন সংকট হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট। লম্বা সময় ধরে যুদ্ধ চলতে থাকলে সংকটগুলো দেখা দেবে। ফলে মাইক্রো অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়তে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপের শঙ্কা : বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে টানা বৃদ্ধির পর মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে জীবন ধারণে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। যার কারণে ঋণ করে চলতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। এতে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে।

এসবের সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়বে।

বিনিয়োগে দুর্বলতা : দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি এরই মধ্যে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কম হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আরো সতর্ক হয়ে উঠতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে নতুন কারখানা স্থাপন বা উৎপাদন সম্প্রসারণে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাতে পারেন। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

রাজস্ব ঘাটতিতে বাড়ছে চাপ : চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২.৯ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪.৫ শতাংশ। বাকি সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ৫৯.৪ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় করতে হবে, যা বাস্তবে সম্ভব নয়।

বর্তমানে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সরকারকে ব্যাংক খাতের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ৫৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বিপরীতে ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ফলে আর্থিক খাতে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও কমে যাচ্ছে। একই সময় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে মূল্যস্ফীতির ওপর আরো চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ বাংলাদেশের জ্বালানির বড় অংশ ওই অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়।

উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি : উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও উদ্বেগজনক ধীরগতি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ২০ থেকে ২১ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

প্রকল্প প্রস্তুতিতে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এর প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়লে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ব্যয় আরো বাড়তে পারে, যা বাস্তবায়নের সময়ও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

বৈদেশিক খাতে মিশ্র পরিস্থিতি : বৈদেশিক খাতে মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে এবং প্রবাস আয়ও স্থিতিশীল রয়েছে। জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার। একই সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে রেমিট্যান্স প্রবাহেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় ওই অঞ্চলের শ্রমবাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে প্রবাস আয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ বিষয়ে আরএমজি সেন্টারের সভাপতি মেহেদী মাহবুব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ অঞ্চল বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ও শ্রমবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ তীব্র হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দুর্বল হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়বে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, সেখানে অস্থিরতা বাড়লে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। পাশাপাশি আকাশপথ বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যয় বাড়বে এবং বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যুদ্ধ স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি—যে পরিস্থিতিই হোক না কেন, অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় সরকার পরিকল্পনা করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর ও শুল্ক কমানোর মতো নীতিগত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে কিছু সূচকে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত থাকলেও ভেতরে ভেতরে একাধিক ঝুঁকি জমা হচ্ছে। রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগে দুর্বলতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি এরই মধ্যে অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাতের অভিঘাত যুক্ত হলে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কায় দেশের অর্থনীতি আবারও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।