প্রান্তিক মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ, মানসম্মত ও ভোগান্তিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের রোগীদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজ করার নির্দেশ
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে যেন মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। বিশেষ করে গ্রামের মানুষ যাতে নিজ এলাকায় সরকারি হাসপাতাল থেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালকে মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে হবে। রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে কঠোর অবস্থান
বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক উপস্থিত থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না—এমন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন।
কিডনি রোগীদের জন্য জেলা ও উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার
বৈঠকে কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
এ ছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।
উপজেলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীতের পরিকল্পনা
বৈঠকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অবকাঠামো সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরাও হাসপাতাল সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত নকশা ও কারিগরি বিষয় তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি পর্যালোচনা
বৈঠকের শুরুতে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জনের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

