গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো আমের মৌসুম। বাজারে এখন বিভিন্ন জাতের আমের সমারোহ। তবে দেখতে অনেকটা একই রকম হওয়ায় অনেক সময় ক্রেতারা হিমসাগর, গোপালভোগ বা অন্যান্য জাতের আম শনাক্ত করতে বিভ্রান্ত হন।
সঠিক জাতের আম কিনতে চাইলে কিছু বৈশিষ্ট্য জানা থাকলে সহজেই পার্থক্য বোঝা সম্ভব। জেনে নিন জনপ্রিয় কয়েকটি আমের জাত চেনার উপায়।
হিমসাগর: সুগন্ধ আর স্বাদেই আলাদা
দেশের জনপ্রিয় আমগুলোর মধ্যে হিমসাগর অন্যতম। সাধারণত মে মাসের শুরু থেকেই এই আম বাজারে পাওয়া যায়।
হিমসাগর আমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, পেকে গেলেও এর খোসা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সবুজই থাকে। ভেতরের শাঁস হয় গাঢ় হলুদ রঙের এবং আঁশ প্রায় থাকে না বললেই চলে। মাঝারি আকারের এই আম অত্যন্ত মিষ্টি এবং এর বিশেষ সুগন্ধ সহজেই অন্য আম থেকে আলাদা করে চেনা যায়।
গোপালভোগ: আগাম মৌসুমের জনপ্রিয় আম
মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে দেখা মেলে গোপালভোগ আমের।
এই আমের খোসা কাঁচা অবস্থায় সবুজ হলেও পাকার সঙ্গে সঙ্গে হালকা হলুদ আভা দেখা যায়। পুরোপুরি পেকে গেলে খোসার রং উজ্জ্বল হলুদ হয়ে ওঠে। আকারে মাঝারি এবং স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় এটি অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে।
গোলাপখাস: নামের মতোই সুগন্ধি
গোলাপখাস আমের বিশেষত্ব এর ঘ্রাণে। অনেকেই বলেন, এর সুগন্ধে গোলাপের সুবাসের মতো একটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।
এই আমের খোসায় সাধারণত সবুজ, হলুদ ও লালচে রঙের মিশ্রণ দেখা যায়। পেকে গেলে নিচের অংশে লালচে আভা আরও স্পষ্ট হয়। স্বাদে মিষ্টি এবং আকর্ষণীয় রঙের কারণে গোলাপখাস সহজেই নজর কাড়ে।
চোষা: সোনালি রঙে সহজে চেনা যায়
চোষা আম আকারে তুলনামূলক লম্বাটে এবং পাকার পর উজ্জ্বল সোনালি হলুদ রং ধারণ করে।
এই জাতের আমে রসের পরিমাণ বেশি এবং স্বাদও বেশ মিষ্টি। রঙ ও আকৃতির কারণে বাজারে অন্যান্য অনেক জাতের আম থেকে এটি সহজেই আলাদা করা যায়।
আম কেনার সময় যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন
* অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিক রঙের আম কেনার আগে সতর্ক থাকুন।
* আমের প্রাকৃতিক ঘ্রাণ আছে কি না যাচাই করুন।
* খুব বেশি নরম বা দাগযুক্ত আম এড়িয়ে চলুন।
* বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে মৌসুমি ফল কেনার চেষ্টা করুন।
* জাতভেদে আমের রং, আকার ও সুগন্ধ সম্পর্কে ধারণা রাখুন।

