হৃদরোগের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধূমপান, স্থূলতা বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সম্পর্ক রয়েছে। তবে দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও ধীরে ধীরে হৃদ্পিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অনেকেই না বুঝেই এসব অভ্যাস অনুসরণ করেন। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, দুর্বল হৃদ্স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
১. দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা
অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় ডেস্কে বসে, গাড়ি চালিয়ে বা টেলিভিশন দেখে কাটান। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে রক্তসঞ্চালন ধীর হয়ে যায় এবং ক্যালরি পোড়ানোর হার কমে যায়। এতে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর উঠে দাঁড়ানো, শরীর টানটান করা বা অল্প সময় হাঁটার চেষ্টা করুন। কয়েক মিনিটের নড়াচড়াও হৃদ্পিণ্ডের জন্য উপকারী হতে পারে।
২. খুব কম ঘুমানো
নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুম হৃদ্পিণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অপর্যাপ্ত ঘুম রক্তচাপ বাড়াতে পারে, প্রদাহ বৃদ্ধি করতে পারে এবং শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তুলতে পারে।
প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ভালো মানের ঘুমের লক্ষ্য রাখুন। নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি মেনে চলা এবং ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সীমিত করা এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
৩. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া
খাবারে প্রায়ই আচার, পাপড়, প্যাকেটজাত খাবার, সস ও তৈরি খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম যুক্ত হয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখে। এতে রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং হৃদ্পিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
অতিরিক্ত লবণের পরিবর্তে খাবারের স্বাদ বাড়াতে ভেষজ, লেবুর রস ও মসলা ব্যবহার করতে পারেন। প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় খাবারের লেবেল পড়ার অভ্যাসও গড়ে তুলুন।
৪. মানসিক চাপ উপেক্ষা করা
কাজের চাপ, আর্থিক উদ্বেগ ও পারিবারিক দায়িত্ব মানসিক চাপের মাত্রা বাড়িয়ে রাখতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি এটি অতিরিক্ত খাওয়া, ধূমপান বা মদ্যপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসকে উৎসাহিত করতে পারে।
হাঁটা, যোগব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস নেওয়া বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো সাধারণ কার্যক্রম মানসিক চাপ সামলাতে সহায়তা করতে পারে।
৫. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পান করা
সফট ড্রিঙ্কস, মিষ্টি ফলের রস, এনার্জি ড্রিঙ্কস এবং চিনিযুক্ত চা বা কফি পেট না ভরিয়েই শরীরে অতিরিক্ত চিনি যোগ করে। নিয়মিত এসব পানীয় গ্রহণের ফলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এর পরিবর্তে পানি, ডাবের পানি, চিনি ছাড়া ঘোল অথবা সামান্য চিনি দিয়ে কিংবা চিনি ছাড়া সাধারণ চা ও কফি বেছে নিতে পারেন।
৬. শারীরিক কার্যকলাপ এড়িয়ে যাওয়া
হৃদ্পিণ্ড ভালো রাখতে জিমে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। প্রতিদিনের শারীরিক নড়াচড়া কমে গেলে হৃদ্পিণ্ডের সক্ষমতা কমতে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করার লক্ষ্য রাখুন। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, নাচ বা সাঁতার—সবই ভালো শারীরিক কার্যকলাপ। এমনকি লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করাও দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপের অংশ হতে পারে।
৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে দেরি করা
উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস অনেক সময় কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই দেখা দিতে পারে। ফলে অনেকেই গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়ার পর এসব রোগ সম্পর্কে জানতে পারেন।
তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। সময়মতো রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করলে এসব সমস্যার বিষয়ে আগে থেকেই সচেতন হওয়া সম্ভব।

