পত্রিকার পাতা
ঢাকাবুধবার , ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

রাজনৈতিক ব্যানারে বার্তা: আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন, ঢাকা মহাসড়কে আহ্বান

Md Abu Bakar Siddique
নভেম্বর ৪, ২০২৫ ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সড়ক-মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের পোস্টার-ব্যানারের কারণে চালকরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন। জনসাধারণের চলাচলের জন্য স্থাপিত ট্রাফিক নির্দেশনা, সাইনবোর্ড, স্পিড লিমিট বোর্ড, এমনকি ফুটওভারব্রিজ পর্যন্ত ঢেকে গেছে রাজনৈতিক পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে। এ কারণে চালকরা সড়কের সঠিক দিকনির্দেশনা দেখতে পান না। এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখন শুধু নান্দনিকতার ক্ষতিই নয়, দুর্ঘটনারও কারণ। এ বিষয়ে দেশে আইন থাকলেও তা কার্যকর করতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তা, সাইনবোর্ড বা সরকারি স্থাপনায় অননুমোদিত যেকোনো ধরনের বিজ্ঞাপন, পোস্টার বা ব্যানার টাঙানো অপরাধ। এ জন্য দায়ীদের জরিমানা বা শাস্তির বিধান রয়েছে।

খবরের কাগজের সরেজমিন তথ্যমতে, ট্রাফিক নির্দেশনা বোর্ডের বেশির ভাগই আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে গেছে পোস্টারে। ঢাকায় ঢুকতে বিভিন্ন এলাকায় এ চিত্র লক্ষ করা গেছে। কোথাও বোর্ডের নিচে শুধু কিছু লেখা দৃশ্যমান, কোথাও আবার পুরোপুরি ঢেকে গেছে নির্দেশক চিহ্ন। বিভিন্ন মহাসড়কের মাঝখানে ইউটার্নের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে কিছু অংশ বাঁশের তৈরি লাঠি বা খুঁটিতে নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে থাকতে দেখা যায়। ব্যানারের দড়ি কখনো বাতাসে ঝুলে থাকে, কখনোবা গাড়ির আয়নায় লাগে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। চালকদের ভাষ্য, রাতের বেলায় গাড়ির হেডলাইটের আলো ট্রাফিক চিহ্নের ওপর প্রতিফলিত হয়ে চালকদের নির্দেশনা দেয়। ট্রাফিক সাইন যখন পোস্টার বা ফেস্টুন দিয়ে ঢাকা পড়ে, তখন আলো প্রতিফলিত না হয়ে বরং অন্ধকারের সৃষ্টি করে, যা দৃষ্টিবিভ্রম ঘটায়। ফলে চালকদের সেকেন্ড লেভেল ডিসিশন টাইম বা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্ত নষ্ট হয়। এটি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন পরিবহন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, এগুলো পরিবেশ ও সড়কের দৃষ্টিদূষণ। সড়ক-মহাসড়কে এ ধরনের পোস্টার-ব্যানারের উপস্থিতি মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। রাস্তার মাঝে এসবের দিকে চালক ও পথচারীরা যখন তাকান, তখন দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক-মহাসড়ক কোনো রাজনৈতিক ময়দান নয়। এগুলো যেমন সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট করে, তেমনি নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়মিত অভিযান চালানো উচিত। ঢাকা মহানগরের জন্য যেমন দুই সিটি করপোরেশন রয়েছে, তেমনি মহাসড়কের জন্য ট্রাফিক বিভাগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

রাজনৈতিক ব্যানারে ঢাকা মহাসড়কের দৃশ্যদূষণ বেড়েছে। ট্রাফিক পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশকে এ জন্য নজরদারি বাড়াতে হবে; যাতে করে আইন লঙ্ঘন করে কেউ পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ব্যবহার করে সড়ক-মহাসড়কের ট্রাফিক সাইন ঢেকে না দেয়। সিটি করপোরেশনকেও এ ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। সড়ক পরিবহন আইন থাকলেও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা তা মানছেন না। আমরা প্রত্যাশা করি, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা জনকল্যাণের কথা চিন্তা করে আইন মেনে প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। তারা এমন কিছু করবেন না, যাতে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘিত হয় এবং জনগণের প্রাণঘাতী বিপদে পড়তে না হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।