চট্টগ্রাম: পাহাড়ের সবুজ ছায়া এবং নীরব জলরাশির একাদশ সৌন্দর্যে ভরা, ফয়’স লেক এখন শুধু শহরবাসীর আরাম নয়—এটি দাড়িয়েছে চট্টগ্রামের পর্যটন পরচিত্রে এক নতুন গ্ল্যামার হিসেবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অ্যাডভেঞ্চার এবং আরাম মিলিয়ে ঠাওর গন্তব্য হিসেবে ফয়’স লেক সারা বছরই ভ্রমণপ্রিয়দের আকর্ষণ করে থাকে।
ফয়’স লেকের সৌন্দর্য শুধুমাত্র ছবি-পোস্টকার্ডে সীমাবদ্ধ নয় — এখানে অ্যামিউসমেন্ট পার্ক, সি-ওয়ার্ল্ড ও রিসোর্ট মিলিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ পর্যটন সঙ্কলন গড়ে উঠেছে। কনকর্ড গ্রুপ পরিচালিত রিসোর্টে সাধারণ অতিথির জন্য ভিউ-বাংলোর মতো স্থানের পাশাপাশি লেক ভিউ রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যা প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে আরামদায়ক অভিজ্ঞতা দেয়।
ভিডজুড়ি প্রেমিকরা এখন ফয়’স লেক বেস ক্যাম্প-এ দাপটের সঙ্গে ঘুরতে আসছেন। এখানে জিপলাইন, ক্লাইম্বিং ও আরচারি চাহিদা মতো আকর্ষণ, নাইট ট্রেইল এবং রাতের ক্যাম্পিং ব্যবস্থাও রয়েছে।ক্যাম্পের মূল্য প্যাকেজ ৬০০ থেকে ৭,০০০ টাকার মধ্যেই করা হয়েছে, যা পরিবার, বন্ধু-গ্রুপ ও কর্পোরেট দলগুলোর জন্য খুবই প্রলোভন-মূলক।
যদিও পর্যটন বাড়ছে, তুলনামূলকভাবে ফয়’স লেকের পরিবেশও ঝুঁকির মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।একটি সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে লেকের জলবায়ু ও হাইড্রোলজি পরিবর্তনশীল, এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা না হলে ভ্রমণ কেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিপন্ন হতে পারে।
ঈদ বা ছুটির দিনে পরিবার-পর্যটকরা ফয়’স লেকের দিকে সমাগম করে। বিশেষ করে অ্যামিউসমেন্ট পার্ক, সি-ওয়ার্ল্ড ও অ্যাডভেঞ্চার জোনগুলোতে ভ্রমণপ্রিয়দের ভিড় লক্ষণীয়। পর্যটন কর্তৃপক্ষ এবং কনকর্ড গ্রুপ মনে করছে — ভবিষ্যতে ফয়’স লেককে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারে যদি নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়।


